টানা বৃষ্টি শিল্পাঞ্চল জুড়ে , জামুড়িয়া আবারও নামলো ধস, এলাকায় আতঙ্ক
*বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়:* টানা দুদিন ধরে আসানসোল শিল্পাঞ্চল জুড়ে চলছে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির মধ্যে আসানসোলের জামুড়িয়ার নিউ কেন্দা তিন নম্বর বাউরি পাড়া মনসা মন্দিরের কাছে আবারও ধসের ঘটনা ঘটলো । বৃহস্পতিবার সকালে বিকট শব্দ শুনতে পান এলাকার বাসিন্দারা। তার সাথে জমি বসে যায়। এই ধসের জেরে ফাটল আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।জানা গেছে, ইসিএলের কেন্দা এরিয়ায় নিউ কেন্দা কোলিয়ারির তিন নম্বর বাউরী পাড়া মা মনসা মন্দিরের কাছে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ বিকট শব্দের সাথে এই ধসের ঘটনা ঘটে।













বৃষ্টির মধ্যে নতুন করে ধস নামার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া, এই ঘটনার পরে ইসিএলের কোনো আধিকারিক এলাকায় না আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রামকৃষ্ণ বাউরি বলেন, এটা ইসিএল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার ফল।

যে কারণে আজ শয়ে শয়ে পরিবার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ধসপ্রবণ এলাকায় থাকার কারণে ইসিএল মোট ১৪৪টি পরিবারকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু ইসিএল সেই ব্যবস্থা না করায় মানুষ এখনও এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেই দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ইসিএল কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ধস এলাকার আশেপাশে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
বাউরী সমাজ শিক্ষা সমিতির হরেকৃষ্ণ বাউরী বলেন, দুবছর আগে মনসা মন্দিরের কাছে প্রথমবার ধস নেমেছিল। তারপর থেকে এ নিয়ে মোট তিনবার ধস নামলো এই এলাকায়। কিন্তু ইসিএল কর্তৃপক্ষ ধসের ঘটনার পরে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েই নিজেদের দায় সেরে নেয়। তিনি আরো বলেন, ধস এলাকার কাছে থাকা কয়েকটি পরিবারকে ইস্ট কেন্দা ইসিএল আবাসনে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দেওয়া হয়।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের সঠিক ক্ষতিপূরণ বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। ইসিএল কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতার বিরুদ্ধে আগামী দিনে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।স্থানীয় বাসিন্দা ক্রান্তি বাউরি বলেন, ধস নামা স্থানটির পাশ দিয়েই মূল রাস্তাটি গেছে। যা দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন।
তাছাড়া কাছেই একটি ফুটবল মাঠ রয়েছে, যেখানে শিশুরা প্রতিদিন এই পথ দিয়েই খেলতে যায়। ফলে সবসময়ই বড় কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। তিনি আরো বলেন, ধস নামা গর্তের ভেতর থেকে সবসময় এক অদ্ভুত শব্দ বার হতে থাকে। যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইসিএল কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে সকলকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন দেওয়া ।যদিও, এই নিয়ে ইসিএলের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

