উজবেকিস্তানে কিক বক্সিং বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে স্বর্ণপদক জিতল দুর্গাপুরের আরাধ্যা ধীবর
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* উজবেকিস্তানে হওয়া কিকবক্সিং বিশ্বকাপে মোট ৬টি ইভেন্টে ৪টি পদক জিতে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলো দুর্গাপুরের কিকবক্সার আরাধ্যা ধীবর। ইয়াঙ্গার ক্যাটাগরিতে ১টি স্বর্ন ১টি রৌপ্য, ২টি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে মাত্র ১০ বছর বয়সী এই খুদে খেলোয়াড়। আরাধ্যা তার অনবদ্য পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে পুনরায় নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে।উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্টে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ থেকে মোট ৩০৪৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন বলে জানা গেছে। সেখানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে পদক জিতে এই কৃতিত্ব অর্জন করে আরাধ্যা।











এই প্রতিযোগীতায় ভারত ও আয়োজক দেশ উজবেকিস্তান ছাড়াও অংশগ্রহন করে রাশিয়া,পোল্যান্ড, ইতালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল,চীন,ইরাক, জার্মানি,গ্রিস, অস্ট্রিয়া, থাইল্যান্ড, তাজাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, প্যালেস্টাইন, ক্রোয়েশিয়া , তুরস্ক, বুলগেরিয়ার মতো দেশ।আরো জানা গেছে, এই বিশ্বকাপ ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে মোট ১৯ জন খেলোয়াড়। তার মধ্যে বাংলা থেকে আরাধ্যা ধীবর সহ মোট ২ জন অংশগ্রহনের সুযোগ পায় এই প্রতিযোগীতায়।আরাধ্যার এই সফর মোটেও সহজ ছিল না। তার পথের বাধা হয়ে উঠেছিল অর্থাভাব। বিমান ভাড়া, রেজিষ্ট্রেশন সহ মোট বাজেট লক্ষাধিক টাকার মতো ছিলো ।


তবে তার সেই আর্থিক বাধা শেষ পর্যন্ত কেটে যায়। তার পাশে এসে দাঁড়ায় স্কুল ,কিছু সংস্থা ও সমাজসেবীরা ।আরাধ্যার বিশ্বকাপের পদক জয়ের পেছনে অবদান রয়েছে কোচ ঈশ্বর মাঝির। তিনি বিশেষ ট্রেনিং দেন আরাধ্যাকে। যা আন্তর্জাতিক মানের। কোচ ঈশ্বর মাঝির কথায়,কম সময়ে আরাধ্যা নিজের কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে আরাধ্যা বিশ্ব স্তরে এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছে। দুর্গাপুরের এজোনের বাসিন্দা বাবা চিরঞ্জিত ধীবর ও মা কাকলি ধীবর নিজের মেয়ে আরাধ্যার জন্য গর্বিত। চিরঞ্জিত ধীবর বলেন, মেয়ে দেশকে আবারও সোনা এনে তিরঙ্গা উঁচুতে রেখেছে। আরাধ্যার পাশে শেষ মুহূর্তে ওর স্কুল সহ কিছু ব্যক্তি ও সংস্থা না দাঁড়ালে ওর স্বপ্ন সত্যি হতো না। আগামী দিনে কোনো বড় সংস্থা সিএসআর থেকে স্পনসর করলে এবং বর্তমান রাজ্য সরকার সহযোগিতা করলে আরাধ্যা ওয়ার্ল্ড গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশগ্রহন করতে পারবে। বর্তমান রাজ্য সরকারের উপর আমরা যথেষ্ঠ আশাবাদী বলে তিনি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ মানসুখ মান্ডোভিয়া বিশ্বকাপ শুরু হবার আগে ফোনে আরাধ্যা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দেশের জন্য মেডেল আনার জন্য আহ্বান জানান। তিনি তাকে বলেছিলেন গোটা দেশ আরাধ্যার সাথে আছে।শেষ পর্যন্ত, সব বাধা কাটিয়ে ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরের আরাধ্যা ধীবর সমগ্র বাংলার সাথে পুরো দেশের যে মান বাঁচিয়েছে এবং ভারতকে জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠত্বর আসনে বসিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

