ASANSOL

সরকারের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে এখনও সক্রিয় ‘দালাল রাজ’ অভিযোগ চালকদের, কুলটিতে বিক্ষোভ, জাতীয় সড়ক অবরোধ

*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যে সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তোলাবাজি বন্ধ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় সামনে এলো গুরুতর অভিযোগ। পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটিতেদামাগড়িয়া রেল ব্রিজের উপরে কলকাতা ধানবাদগামী লেনে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে পথ অবরোধে সামিল হন ট্রাক চালকরা। শনিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সীমান্তবর্তী এলাকায় রামপুর এমভিআই দপ্তরের আধিকারিকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি আটকে হয়রানি করছেন।

ট্রাক চালক অমর সিং বলেন, আমি হলদিয়া পোর্ট থেকে ৫৫ টন আন্ডারলোড মাল নিয়ে নেপালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো সত্ত্বেও রাস্তায় দাঁড় করিয়ে নথিপত্র পরীক্ষার নামে দীর্ঘক্ষণ হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।অন্যদিকে একাধিক ট্রাকচালক আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, আসানসোল এমভিআই এলাকায় গাড়ির নম্বর এন্ট্রির নামে সক্রিয় রয়েছে বড়সড় দালালচক্র। চালকদের দাবি, দালালদের টাকা দিয়ে “পাসিং” না করালে পথে পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়।

তাঁদের দাবি, অবিলম্বে জাতীয় সড়কে এই ধরনের বেআইনি টাকার খেলা, এন্ট্রি ফি আদায় এবং চালকদের হেনস্থা বন্ধ করতে হবে।ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সড়ক। খবর পেয়ে কুলটি থানা ও চৌরঙ্গি ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অবরোধকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালানোর পর প্রায় ৩০ মিনিট পরে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়। এরপরই ১৯ নং জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে জাতীয় সড়ক অবরোধ করার অভিযোগে এক ট্রাকচালককে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

যদিও ট্রাকচালকদের তোলা তোলাবাজি, এন্ট্রি ফি ও দালালচক্রের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মোটরস্ ভেহিক্যালস বা এমভিআই দপ্তরের আধিকারিকরা। তাদের দাবি, নিয়ম মেনেই নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছিল। বেআইনি অর্থ আদায়ের অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। তারা বলেন, ঐ চালকের কাছ থেকে তার গাড়ির কাগজ দেখতে চাওয়া হয়েছিলো।পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। ঠিক কি ঘটনা তা, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *