আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে দুষ্কৃতি তান্ডবের অভিযোগ, রণক্ষেত্র এলাকা, পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের রেলপার এলাকায় আসানসোল উত্তর থানার অন্তর্গত জাহাঙ্গির মহল্লা বা ফৈইজি আম বাগ পুলিশ ফাঁড়িতে দুষ্কৃতি তান্ডবের অভিযোগ উঠলো। শুক্রবার রাত নটার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলপারের ঐ এলাকা কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠে। পরিস্থিতি সামলাতে পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পাঠানো হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। কাঁদানে বা টিয়ার গ্যাসের সেল পাঠানো হয়। প্রায় ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় রাত দশটার পরে পরিস্থিতি কিছুটা সামলানো সম্ভব হয়। যদিও তার আগে, হামলাকারীরা ঐ ফাঁড়িকে তছনছ করে দেয়। ফাঁড়ির সামনে রাখা একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ফাঁড়ির মধ্যে থাকা সামগ্রী ও জরুরি নথি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। হামলায় আহত হন ফাঁড়ি ইনচার্জ উজ্জ্বল সাহা সহ একাধিক পুলিশ কর্মী। কিন্তু কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা, পরিষ্কার হয়নি।














তবে, অভিযোগ, ঐ এলাকায় একটি মসজিদে মাইক বন্ধ করার জন্য পুলিশের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিলো। সেই কারণে এই হামলার ঘটনার কি না তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। শনিবার সকালেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। এলাকার সমস্ত দোকান বন্ধ রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিসি টিভির ফুটেজ খতিয়ে হামলাকারীদের সনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। এদিন সকালে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস বলেন, ঠিক কি কারণে এই ঘটনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার রাত নটা নাগাদ একদল মানুষ ফাঁড়িতে আসে। তারপর ফাঁড়িতে হামলা চালায়। সিসি টিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, রাতের এই হামলার ঘটনার একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রচুর মানুষ ফাঁড়িতে হামলা করছে।
এদিকে, জাহাঙ্গির মহল্লা ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ও ভাঙচুরের ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দুষ্কৃতিদের কাউকেই ছাড়া হবে না। শুক্রবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একদল দুষ্কৃতি পরিকল্পিতভাবে ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিধায়ক বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রত্যেক অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, শুধু হামলাকারীরাই নয়, যারা পর্দার আড়াল থেকে এই ঘটনায় উস্কানি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, “কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। শান্তি বজায় রাখুন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। কিছু দুষ্কৃতি অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।”কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরির যে কোনও চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

