দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াকে হোটেলে গনধর্ষনের অভিযোগ, ধৃত তিন
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়, দুর্গাপুরঃ* প্রথমে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া ও পরে ওষুধ মিশিয়ে মদ্যপান করানো। তারপর হোটেলের ঘরে নিয়ে গিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করা হলো ! শনিবারের এমনই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে। জানা গেছে, বুদবুদ থানা এলাকার অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া ঐ নাবালিকা তারই এক বান্ধবী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর চার চাকার ভেতর মদ্যপান করিয়ে তিন যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, নাবালিকাকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।













সেখানে রাজ মল্লিক, শেখ আজারুদ্দিন সহ তিন যুবক তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় তল্লাশি। অভিযুক্তদেরকে গ্রেফতার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক দল এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, বুদবুদ এলাকার সিমরান তামাং নামে এক তরুণী আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে লিয়ে নিয়ে যায়। তারপর মদ্যপান করায়। মদের সাথে ওষুধ মিশিয়ে দেয় যাতে বেহুঁশ হয়ে যায়। তারপর তিন যুবকের সঙ্গে হোটেলের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। তারপরেই মেয়ের সাথে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তারপর বুদবুদ বাইপাসে মেয়েকে একা ছেড়ে দিয়েই পালাই অভিযুক্তরা।
এক টোটোওয়ালা অসহায় অবস্থায় দেখতে পেয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তারপরেই আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক আমি চাইছি। বর্তমানে আমার মেয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এই ঘটনার পরে বিজেপির যুব নেতা পারিজাত গাঙ্গুলি গঙ্গোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন,যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বর্তমান সরকার এই ধরনের ঘটনা আপোষ করবে না।অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে এদিন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার বলেন, ইতিমধ্যেই তিনজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে সিমরান তামাং এই ঘটনার মুল অভিযুক্ত। তদন্ত চলছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজত চেয়ে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরে এই ঘটনার পরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।


