দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, চেম্বার পেলেন আসানসোল পুরনিগমে বিরোধী দলনেত্রী মানুষের স্বার্থে আরো সক্রিয় হওয়ার বার্তা চৈতালি তিওয়ারির
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে আসানসোল পুরনিগমে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত চেম্বার হলো। যা, নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার আসানসোল পুরনিগমের বিজেপি কাউন্সিলার বিরোধী দলনেত্রী চৈতালি তেওয়ারি সেই চেম্বারে বসেন। এই প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে চৈতালি তেওয়ারি বলেন, মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই আমরা নির্বাচিত হয়েছি। এতদিন সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলাম।চৈতালি তিওয়ারি বলেন, মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন মানুষের সেবা করার জন্য।













গত চার বছর ধরে আমরা বিভিন্নভাবে আবেদন করেছি, চিঠি দিয়েছি, যাতে পুরনিগমের মধ্যে একটি ছোট জায়গা পাই। যাতে সেখান থেকে মানুষের সমস্যা শুনে কাজ করতে পারি। এতদিন সেই সুযোগ পাইনি। এখন সেই সুযোগ মিলেছে।তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শুধু সমালোচনা নয়, পুর প্রশাসনকে সহযোগিতা করেও নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বোর্ড মিটিংয়ে বিরোধীদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হতো না এবং বহু বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ সীমিত ছিল।বিরোধী দলনেত্রীর কথায়, বোর্ড মিটিংয়ে আমাদের সম্মানজনকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। আমরা মানুষের কথা বলতে চাই, মানুষের সমস্যা তুলে ধরতে চাই। আমাদের মুখ বন্ধ করে রাখা যাবে না।পুরনিগম পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মানুষের করের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি।
দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে বিরোধী পক্ষ তার বিরুদ্ধে সরব হবে বলেও জানান তিনি।চৈতালি তিওয়ারি আরো বলেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা নজরদারি করবেন।সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, মানুষের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যেতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আসানসোলের মানুষ যাতে সমস্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পান, তার জন্য আমরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।এই প্রসঙ্গ ও চৈতালি তেওয়ারির অভিযোগ নিয়ে মেয়র বিধান উপাধ্যায় বিশেষ কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, আসানসোল পুরনিগমে সবদলের কাউন্সিলাররা সমান গুরুত্ব পান। তবে বিরোধী দলনেত্রীর কেন, কোন বসার জায়গা ছিলোনা, তার কোন জবাব মেয়র দিতে পারেননি। দীর্ঘদিনের দাবির পর বিরোধী দলের ঠিকানা মেলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। তারা এদিন আসানসোল পুরনিগমে এসে চৈতালি তেওয়ারিকে সম্মান জানিয়ে যান। এসেছিলেন বিজেপি কাউন্সিলার গৌরব গুপ্তা, ইন্দ্রাণী আচার্যরাও। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে আসানসোল পুরনিগমে বিরোধী দলের ভূমিকা আরও সক্রিয় হতে পারে এবং নাগরিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।


