দুর্গাপুরে ৫ জেলার প্রশাসনিক বৈঠক জল জমলেই জবাবদিহি অবৈধ দখল ও ডেঙ্গি রুখতে প্রশাসনকে সতর্কবার্তা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বর্ষা শুরু হতেই জল জমা, ডেঙ্গির প্রকোপ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা কিংবা সরকারি জমি দখল। কোন বিষয়েই আর কোন রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের উদ্দেশে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে পাঁচ জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্ষার মরশুমে কোথাও যাতে জল না জমে সেজন্য এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নজরদারিতে রাখা হবে। জল নিকাশি ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।













পাশাপাশি বর্ষাকালে ল্যাম্পপোস্ট বা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট ও দুর্ঘটনা রুখতেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কোনও প্রাণহানি যাতে না ঘটে, তার জন্য নির্দিষ্ট আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ডেঙ্গি মোকাবিলাতেও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার বলে এদিন মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন , ডেঙ্গির কারণে যাতে একজন মানুষেরও মৃত্যু না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। নিকাশি নালা পরিষ্কার রাখা, জমা জল অপসারণ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের।

শুধু স্বাস্থ্য বা জল নিকাশি নয়, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার বিষয়েও কঠোর বার্তা দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, সরকারি জমি বা জায়গা অবৈধভাবে দখল করলে কোনভাবেই কাউকে রেয়াত করা হবে না। আইন মেনে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে নদী থেকে অবৈধভাবে জল উত্তোলনের বিরুদ্ধেও প্রশাসনকে সতর্ক করেন তিনি। বিশেষ করে দামোদর নদী থেকে অবৈধভাবে জল তোলার ঘটনায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর বক্তব্য, দামোদরের জল দুর্গাপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
এদিন পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূম এই পাঁচ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের উপস্থিতিতে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও পাঁচ জেলার পুরসভা ও পুরনিগমের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন এদিনের বৈঠকে। এর পাশাপাশি এই বৈঠকে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাঝি ও মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এছাড়াও ছিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুই, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় , সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সহ পাঁচ জেলার একাধিক বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিক।বলা যেতেই পারে, বর্ষার আগেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে কার্যত ‘জিরো টলারেন্স’ র বার্তা দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।



