আসানসোলে সরকারি অফিসে তৃণমূলের পতাকা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মদের বোতল ! সরব বিজেপি
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়ার আগে আসানসোল পুরনিগমের ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিশীলা কলোনিতে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলো। এই নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা নেত্রী কাকলি ঘোষ। সরকারি ডেভেলপমেন্ট কমিটি অফিস ও সংলগ্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের পর তিনি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবারের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কাকলি ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়েই গোটা বিষয়টি নজরে আসে। তিনি বলেন, স্থানীয় সুপারভাইজারদের পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়ার পর ডেভেলপমেন্ট কমিটি অফিসের একটি খোলা ঘরে ঢুকে দেখা যায় সেখানে বিপুল সংখ্যায় পুরনিগমের ডাস্টবিন রাখা রয়েছে।














পাশাপাশি ঘরের ভিতরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা, স্বাস্থ্য বিভাগের স্প্রে মেশিন, ডেটল এবং অন্যান্য সামগ্রীও মজুত অবস্থায় ছিল বলে তাঁর দাবি।বিজেপি নেত্রীর প্রশ্ন, একটি সরকারি ভবনের ভিতরে কেন একটি রাজনৈতিক দলের পতাকা রাখা হবে? তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি সম্পত্তিকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।এরপর সংলগ্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর চিত্র দেখতে পান বলে দাবি করেন কাকলি ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাথরুমে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল পড়ে ছিল। শুধু তাই নয়, সেখানে সরকারি ত্রাণের জন্য বরাদ্দ কম্বলও মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী কিভাবে সেখানে পড়ে রয়েছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।এদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো নিয়েও সরব হন বিজেপি নেত্রী। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে একটি জলাধার বা রিজার্ভার দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় রয়েছে। সেখানে ময়লা জল জমে রয়েছে এবং মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এতে ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা প্রচার করছেন, সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিজস্ব পরিকাঠামোর এমন অবস্থা কেন ?কাকলি ঘোষ আরো অভিযোগ করেন, এলাকার সাধারণ মানুষ পানীয় জল সহ একাধিক নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় ভুগলেও জনপ্রতিনিধিরা সেই সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না।
তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত তথ্য সামনে আনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে কাকলি ঘোষ বলেন, সরকারি সম্পত্তি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জনসেবামূলক পরিকাঠামোর সঙ্গে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা উচিত নয়। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আবেদন জানান।তবে বিজেপি নেত্রীর এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেস, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা আসানসোল পুরনিগমের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


