ডিসেরগড়ে দামোদর নদীতে ডুবে মৃত্যু দশম শ্রেণির তিন পড়ুয়ার
বেঙ্গল মিরর, ডিসেরগড় ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কুলটি থানা ডিসেরগড়ে দামোদর নদীতে স্নান করতে নেমে দশম শ্রেণির তিন স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু হলো। সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মৃত তিন স্কুল পড়ুয়ার নাম হলো কুলটি থানার নিয়ামতপুরের নুরনগরের মহঃ নুরুউদ্দিন ( ১৭) ও তবরেজ আলম (১৫) ও মিঠানি কোলিয়ারির আয়ন আখতার (১৬)। তিনজন কুলটি থানার নিয়ামতপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করতো। এদিন দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে তিন স্কুল পড়ুয়ার মৃতদেহর ময়নাতদন্ত হয়। এই ঘটনায় ডিসেরগড় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিক ভাবেই তিন স্কুল পড়ুয়ার বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তারা বুঝে উঠতে পারছেন না যে, কি করে এমন ঘটনা ঘটলো।














পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির আটজন পড়ুয়া শনিবার স্কুলে যায়নি। সেই কারণেই তাদের সোমবার স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্কুল কতৃপক্ষ তাদেরকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। কিন্তু তারা বাড়ি ফিরে যায়নি। এরপর তারা স্কুল থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে ডিসেরগড়ে মাজাহার শরিফের কাছে দামোদর নদী তীরের কাছে মাঠে ক্রিকেট খেলতে চলে যায়। ক্রিকেট খেলার পর আটজন দামোদর নদীতে স্নান করতে নামে। তার মধ্যে তিনজন মহঃ নুরুউদ্দিন, তবরেজ আলম ও আয়ন আখতার দামোদর নদীতে বেশ কিছুটা দূরে চলে যায়। তাতে তারা ভারসাম্য হারিয়ে গভীর জলে ডুবে যায়। বাকি পাঁচজন কোনমতে নদী থেকে পাড়ে উঠে আসে। এরপর তারা আশপাশের এলাকায় গিয়ে লোকেদেরকে তিনজনের ডুবে যাওয়ার কথা বলে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকেরা দৌড়ে আসেন।
খবর পেয়ে কুলটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় তার তিন স্কুল পড়ুয়াকে দামোদর নদী থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে। তিনজনকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।খবর পেয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে তিন স্কুল পড়ুয়ার পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দারা আসেন। তারা ঘটনায় শোকাহত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, স্কুল কতৃপক্ষ স্কুলে ঢুকতে না দেওয়ার মতো শাস্তি না দিলে, এমন ঘটনা ঘটতো না। ঐ বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের তরফে এই ঘটনা নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানায়, স্কুল পড়ুয়ারা কেউ সাঁতার জানতো না। আর যে জায়গায় দামোদর নদীতে তারা স্নান করতে নেমেছিলো সেই জায়গা বিপজ্জনক। সেখানে বোর্ডও লাগানো আছে। তা স্বত্বেও তারা সেখানে স্নান করতে নামে ও দামোদর নদীতে জলে তলিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, বারবার বলা স্বত্বেও দামোদর নদীর ঐ এলাকায় অনেকেই স্নান করতে চলে যাচ্ছেন। আর বারবারই সেখানে ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। পুলিশ মনে করছে, আরো ভালো করে সচেতনতার প্রচার চালাতে হবে।


