*জামুড়িয়ার ‘ত্রাস’ প্রেমপাল সিং-এর অফিসে হঠাৎ পুলিশি হানা, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা*
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী,*জামুড়িয়া:* একসময় “মন্ত্রী আমি বানাই” বলে দাপিয়ে বেড়ানো এবং যার ঔদ্ধত্যের জন্য ভরা জনসভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করেছিলেন, সেই প্রেমপাল সিং-এর অফিসে বুধবার হঠাৎ পুলিশি অভিযান চালাল প্রশাসন। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বহুলা এলাকায় অবস্থিত অফিসে এই হানা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে কী কারণে এই অভিযান তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।*কে এই প্রেমপাল সিং:* পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হরে রাম সিং-এর পুত্র প্রেমপাল সিং।














২০২১ সালে তৃণমূল জয়ের পর গত পাঁচ বছরে জামুড়িয়ায় বাবা বিধায়ক থাকাকালীন একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরে বারবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। এলাকায় ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন প্রেমপাল। তাঁর আচার-আচরণ নিয়ে দলের অন্দরেও তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ভরা জনসভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিধায়ক হরে রাম সিংকে ছেলের কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সতর্কবাণী শুনিয়েছিলেন।*সরকার বদলের পর অন্তরালে:* বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকেই এলাকায় আর দেখা মেলেনি প্রেমপাল সিং-এর।
৪ মে-র পর বেশ কিছুদিন তাঁকে নিয়ে শাসকদলের কর্মীদের মধ্যে জোর চর্চা চললেও হঠাৎই সেই চর্চা থেমে যায়। বাবা হরে রাম সিংকে মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও প্রেমপাল ছিলেন অন্তরালে।*হঠাৎ পুলিশি অভিযান:* দীর্ঘদিন পর বুধবার হঠাৎই পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের বহুলায় অবস্থিত প্রেমপাল সিং-এর অফিসে পুলিশি অভিযান শুরু হয়। এই ঘটনা ফের একবার প্রাক্তন বিধায়ক পুত্র তথা তৎকালীন যুব নেতা প্রেমপাল সিংকে নতুন করে চর্চায় এনেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর নাগাদ পুলিশের একটি দল বহুলার অফিসে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ সেখানে তল্লাশি চলে।
তবে কী সূত্রে বা কোন মামলার ভিত্তিতে এই অভিযান, সে বিষয়ে পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি। অফিস থেকে কিছু উদ্ধার হয়েছে কি না তাও স্পষ্ট নয়।পুলিশি অভিযানের পর এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুরনো কোনও মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। আবার কারও মতে, নতুন কোনও অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ সক্রিয় হয়েছে।প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে।


