আসানসোল বিধানচন্দ্র কলেজে চাঞ্চল্য বিভাগীয় প্রধানকে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে , বৈঠক ডেকে পদক্ষেপের আশ্বাস অধ্যক্ষের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের বিধানচন্দ্র (বিসি) কলেজে এক সহকারী অধ্যাপিকা বা এ্যাসিসটেন্ট প্রফেসরকে অন্য এক অধ্যাপিকার শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তথা সহকারী অধ্যাপিকা ড. অমৃতা বন্দোপাধ্যায় তার সহকর্মী অধ্যাপিকা সাবেরা শর্মা বসুর বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইলে ছবি তোলা, শারীরিক নিগ্রহ এবং দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার হওয়া এই ঘটনা নিয়ে কলেজ কতৃপক্ষ ও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।














কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় ও হিরাপুর থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে লিখিত অভিযোগ করার ২৪ ঘন্টা পরেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি কলেজ কতৃপক্ষ ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ডঃ অমৃতা বন্দোপাধ্যায় শুক্রবার কলেজের অধ্যক্ষের চেম্বারের সামনে দরজার পাশে এই ঘটনার বিহিত চেয়ে ধর্ণা অবস্থানেও বসেন। পরে, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ ও অন্যরা কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেন।

এদিন তিনি অভিযোগ করে বলেন , আমি বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ বিভাগে এসে ছাত্র-ছাত্রীদের ভেরিফিকেশনের কাজ করছিলাম। আমার সঙ্গে রনিতা ভট্টাচার্যও ছিলেন। এগারোটা নাগাদ সেই কাজ চলাকালীন সাবেরা শর্মা বসু আমার অজান্তে মোবাইলে ছবি তুলেন। আমি পরে তা বুঝতে পেরে আপত্তি জানিয়ে ছবি মুছে ফেলার দাবি করলে বচসা শুরু হয়। তার অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন সাবেরা শর্মা বসু।
তাতে তাঁর হাতে আঘাত লাগে। পরে উপস্থিত অন্যান্য অধ্যাপিকাদের চাপ হস্তক্ষেপে মোবাইল থেকে ছবিটি মুছে ফেলেন ঐ অধ্যাপিকা।এই ঘটনার পর তিনি কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি টিচার্স কাউন্সিলের সচিবকেও বিষয়টি জানান। এরপর হিরাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশের নির্দেশে আসানসোল জেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় নথি থানায় জমা দেন তিনি।
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ডঃ অমৃতা বন্দোপাধ্যায় গত নয় বছর ধরে ঐ অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে হয়রানি, অশান্তি সৃষ্টি ও অসহযোগিতার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভাগের আরও দুই অধ্যাপিকার একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। কলেজ প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও বিভাগের কাজে অসহযোগিতা, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম এবং অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে, কলেজের অধ্যক্ষ ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, টিচার্স কাউন্সিলের কনভেনার মহঃ জামশেদ ডাকা হয়েছে। শনিবার গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি বৈঠক হবে। সেখানে অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে। ড. অমৃতা বন্দোপাধ্যায় যেভাবে হেনস্থার অভিযোগ করেছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর প্রশাসনিকভাবে যা যা করণীয়, তা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে কলেজে গভর্নিং বডি নেই। তাই বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা প্রশাসককেও জানানো হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আগামী মঙ্গলবার আমি প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করবো।এদিকে, হিরাপুর থানার পুলিশ জানায়, আসানসোল বিসি কলেজের এক অধ্যাপিকা একটি ঘটনা নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই অধ্যাপিকার কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। তার সঙ্গে যোগাযোগও করা সম্ভব হয়নি।


