কল্যাণেশ্বরীতে দুঃসাহসিক চুরি এক রাতে হোটেল ও লজে লুট নগদ টাকা, ফোন ও বাইক, আতঙ্ক
*বেঙ্গল মিরর, কল্যানেশ্বরী, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল শিল্পাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনক্ষেত্র কল্যাণেশ্বরীতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির অন্তর্গত ‘আসা রিসোর্ট’ এবং ‘আপনজন লজ’ এ পর পর চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভির ডিভিআর থেকে শুরু করে নগদ টাকা, দামি মোবাইল ফোন এবং এমনকি এক পর্যটকের মোটরসাইকেল পর্যন্ত নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতিরা।স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা প্রথম হানা দেয় ‘আসা রিসোর্ট’-এ। সেখানকার ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ প্রায় ৫৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চোরেরা।














প্রমাণ লোপাট করতে রিসোর্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর যন্ত্রটিও খুলে নিয়ে চম্পট দেয় তারা।আসা রিসোর্টে চুরির পরেই দুষ্কৃতীরা পাশের ‘আপনজন লজ’এ আসে। সেখানে হুগলি থেকে আসা চার বন্ধুর একটি রুমকে টার্গেট করে তারা। ঘরের জানলা খুলে একটি আইফোন, একটি অ্যান্ড্রোয়ড ফোন চুরি করে দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, ঐ চার পর্যটকের বাইকের চাবি হাতিয়ে নেয় তারা। এরপরে লজের বাইরের গেটের তালা ভেঙে মোটরবাইকটি নিয়ে চম্পট দেয় চোরেরা।ঘটনার খবর পেতেই কুলটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

এলাকা ও লজের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে বলে সূত্রের খবর।হোটেল মালিকদের দাবি, লজের সিসিটিভিতে ‘রিকবুল’ নামের এক স্থানীয় যুবককে স্পষ্ট দেখা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, রিকবুল আগেও একাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত রিকবুলের বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
হোটেল মালিকদের বক্তব্য, এলাকাটি কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির অধীনে হলেও, এই হোটেলগুলির ঠিক সামনেই রয়েছে সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী ফাঁড়ি। ফাঁড়ির এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে এমন দুঃসাহসিক চুরি ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।অন্যদিকে, চরম ভীতি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঘুরতে আসা পর্যটকরা।
এক পর্যটক বলেন, আজ আমাদের সাথে এই ঘটনা ঘটেছে, কাল অন্য কারও সাথে ঘটতে পারে। কল্যাণেশ্বরীর মতো জায়গায় হোটেল ও লজগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই মূল চাঁই সহ সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

