ASANSOL

আসানসোলে জেলা বিজেপির উদ্যোগে ” সেবা সংকল্প অভিযান “র আয়োজন, হবে নানা অনুষ্ঠান

বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে সামনে রেখে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার তরফেও এই অনুষ্ঠান করা হবে। শনিবার দুপুরে আসানসোলের সেনরেল রোড বা বিবেকানন্দ সরণীর একটি হোটেলে জেলা বিজেপির তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় ।রাজ্যের দুই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও ডাঃ অজয় পোদ্দার সেই সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন , প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছাতে চলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত মোদীর ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা, ত্যাগ, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং কর্মযাত্রার কাহিনী জনগণের কাছে তুলে ধরার জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে একটি বিশেষ ‘সেবা-সংকল্প অভিযান’-র ডাক দেওয়া হয়েছে। এই মাসব্যাপী কর্মসূচি মোদীর আড়াই দশকের প্রশাসনিক সাফল্যের গল্প এবং জনকল্যাণমূলক নীতিগুলি প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেবে।

তাঁরা জানান , পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় বাঙালি উৎসব দুর্গাপূজোকে মাথায় রেখে এই অভিযানের সময়সূচিতে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। উৎসবের আনন্দ ও ব্যস্ততার কথা বিবেচনা করে, বেশিরভাগ কর্মসূচি ৯ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলে মোট ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ও জনমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এদিন বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ‘সেবা-সংকল্প অভিযান’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত কর্মসূচি ও রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন , নরেন্দ্র মোদী ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক যাত্রা শুরু করেছিলেন। প্রায় ১৩ বছর সফলভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, তিনি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন এবং তখন থেকে নিরন্তর দেশের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেনয, এই মাসব্যাপী অভিযানটি ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হবে। যেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন । এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের আলো’ নামে একটি অনন্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেদিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের প্রতিটি কোণে, প্রতিটি বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দেড় কোটি প্রদীপ জ্বালানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহের প্রতি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেবে। প্রদীপ প্রজ্বলনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সংযুক্ত করার জন্য বেশ কিছু সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্বপ্নের ভারত’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচির অধীনে, রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছবি আঁকা এবং বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এই শিশুরা ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষে একবিংশ শতাব্দীর ভারত এবং তাদের বাংলাকে তারা কেমন দেখতে চায়, সেই বিষয়ে তাদের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বপ্ন তুলে ধরবে। এই অভিযানের প্রধান আকর্ষণ এবং কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘সেবা মহাযজ্ঞ’। এই কর্মসূচির অধীনে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী বিতরণসহ মোট ২৫টি জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও, ‘সেবা সেতু’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি জনসাধারণ এবং সরকারি প্রশাসন ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। জনসাধারণের সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের উপর জোর দিয়ে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ব্লক অফিসে বিশেষ শিবির স্থাপন করা হবে। এই উদ্যোগটি সরকারি দপ্তরে মানুষের ভোগান্তি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

তিনি আরো বলেন, তালিকায় আরও বেশ কিছু আকর্ষণীয় কর্মসূচি রয়েছে, যেমন ‘সেবা রং’, ‘সেবা ভারত ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’, ‘গাথা’ এবং ‘আমার গল্প’। এই কর্মসূচিগুলিতে ভিডিওর মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে, যা সরকারের সাফল্যের জীবন্ত সাক্ষ্য হিসেবে কাজ করবে। মাসব্যাপী এই প্রচার অভিযানের সমাপ্তি হবে ৯ অক্টোবর কলকাতার ঐতিহাসিক নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিভাবান তরুণ এবং উদীয়মান স্টার্টআপগুলির প্রকল্প ও উদ্যোগগুলি প্রদর্শন করা হবে। সফল উদ্ভাবক এবং তরুণদের মঞ্চে সম্মানিত করা হবে, যা পরবর্তী প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এই মাসব্যাপী কর্মসূচির লক্ষ্য থাকবে পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রত্যেক ব্যক্তিকে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

তিনি জেলার প্রতিটি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ জানাতে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় তাদের বাড়ির সামনে একটি প্রদীপ জ্বালানোর জন্য আবেদন করেন। তিনি আরো বলেন , ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত ‘উন্নত ভারত’ এবং তার সঙ্গে একটি ‘উন্নত বাংলা’ গড়ার প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখনই পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। এই বিশেষ প্রচার অভিযানটি প্রশাসন, দলীয় সংগঠন এবং জনসাধারণকে একত্রিত হওয়ার একটি সুযোগ করে দিয়েছে।এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য, অপূর্ব হাজরা, শম্পা রায়, মদন চৌবে ও রানিগঞ্জের বিধায়ক পার্থ ঘোষ।

News Editor

Mr. Chandan | Senior News Editor Profile Mr. Chandan is a highly respected and seasoned Senior News Editor who brings over two decades (20+ years) of distinguished experience in the print media industry to the Bengal Mirror team. His extensive expertise is instrumental in upholding our commitment to quality, accuracy, and the #ThinkPositive journalistic standard.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *