“গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দরকার, অভিষেকের চিকিৎসা হোক ডায়মন্ড হারবারেই” , কটাক্ষ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ( Agnimitra Pal targets Abhishek Banerjee in Asansol) পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলে বার্নপুর নরসিংবাঁধের বালাজী ধামে বৃহস্পতিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্নপূর্ণা প্রকল্প, সেবাশ্রয় এবং দুর্নীতি সহ একাধিক বিষয়ে আক্রমণ করেন।মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ” স্ট্রং অপজিশন, স্ট্রং ক্রিটিসিজিম ও হেল্থি ক্রিটিসিজিম ” সবই গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু যেভাবে তৃণমূল ভেঙে পড়েছে, তাতে তারা কতটা কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।














অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায় প্রসঙ্গ তুলে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করবে।তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদঅভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে যখন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে, তখন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন কি ? তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবারের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেই আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তার অন্য কোন জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রকৃত উপভোক্তাদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা। তবে যাচাই-বাছাইয়ে বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম উঠে আসায় নিয়মে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা হয়েও এখনও সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের অভিযোগ লিখিতভাবে জানালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মন্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদের পাশাপাশি সোনার বার ও বিস্কুট উদ্ধারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন , এই অর্থ সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে অর্জিত হয়েছে। কয়লা, বালি, পাথর-সহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।মিড ডে মিলে ডিমের পরিবর্তে নিরামিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, নিরামিষ খাবারও যথেষ্ট পুষ্টিকর হতে পারে। তবে যেসব ছাত্রছাত্রী ডিম খেতে চায়, তাদের জন্য ডিমের ব্যবস্থাও সরকার বজায় রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


