ছাই দূষণে অতিষ্ঠ শাঁকতোড়িয়া, ডাম্পার আটকে বিক্ষোভে এলাকার বাসিন্দারা, সমর্থন বিজেপি নেতার
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দীর্ঘদিনের ছাই দূষণের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আসানসোলের কুলটি থানার শাঁকতোড়িয়া হুসেনিয়া মোড় এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার সকালে ছাই বোঝাই একাধিক ডাম্পার আটকে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় মানুষজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিভিসির পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর এলাকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ছাই বোঝাই ডাম্পার ডিসেরগড়–নিয়ামতপুর রোড দিয়ে যাতায়াত করে। সেই ডাম্পারগুলির অনেকগুলিই সঠিকভাবে ঢেকে না রাখায় চলন্ত অবস্থায় রাস্তার উপর ছাই উড়ে পড়ছে। এর ফলে গোটা এলাকা ধুলো ও ছাইয়ের আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে।














এলাকাবাসীদের দাবি, এই দূষণের কারণে পথচলতি মানুষ, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, ধুলোজনিত নানা শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বহুবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথে নেমেছেন বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।শুক্রবার বিক্ষোভ চলাকালীন ছাই বোঝাই একাধিক ডাম্পার আটকে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কুলটি থানার শাঁকতোড়িয়া ফাঁড়ির পুলিশ।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে এদিন এলাকায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর অভিজিৎ আচার্য্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ছাই দূষণের শিকার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম এবং রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দারের নজরে আনা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।এলাকাবাসীদের দাবি, অবিলম্বে ছাই বোঝাই ডাম্পারগুলিকে সম্পূর্ণ ঢেকে পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা জনবসতিপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে এ ধরনের ডাম্পারের চলাচল বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তাঁরা।


