ASANSOLDURGAPUR

দুর্গাপুরে নাবালকদের রক্তদান করানোর অভিযোগ টিএমসিপির সদস্য সহ ধৃত তিন, তদন্তে পুলিশ

*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* একটি বেসরকারি স্কুলের নাবালক ছাত্রদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগ উঠেছিলো। দুর্গাপুরের এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পরে গোটা রাজ্য জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) এক সদস্য সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ।অভিযোগ, দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন নাবালক ছাত্রের কাছ থেকে রক্তদান করানো হয়। বিনিময়ে তাদের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।পুলিশের এই তদন্তে প্রথমে উঠে আসে ঐ স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র দেবপ্রিয় চক্রবর্তীর নাম। অভিযোগ, সেই নাবালক ছাত্রদের বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেত।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে দেবপ্রিয় দাবি করে, তাকে এই কাজে নামিয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিত প্রসাদ যাদব। এই ঘটনার সাথে যুক্ত ছিল আরো এক যুবক মালদহের বাসিন্দা মহঃ হাবিবুল্লাহ। বর্তমানে হাবিবুল্লাহ দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হোটেলে কাজ করেন। পুলিশের তদন্তে আরও অভিযোগ ওঠে যে, এই গোটা চক্রের মূল চাঁই দুর্গাপুরের মুচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিত প্রসাদ যাদব।

দেবপ্রিয়র দাবি, অমিত প্রসাদ যাদব তার মায়ের এবং তার সোনার গয়না বন্ধক রেখে তাকে টাকার লোভ দেখিয়েছিল। বলা হয়েছিল, যত বেশি রক্তদাতা জোগাড় করতে পারবে, তত বেশি টাকা পাবে। সেই প্রলোভনেই সে নাবালক ছাত্রদের এই চক্রে জড়িয়ে ফেলে বলে অভিযোগ।বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দেবপ্রিয় চক্রবর্তী, মহঃ হাবিবুল্লাহ এবং অমিত প্রসাদ যাদবকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কিংবা এর পেছনে বড় কোন চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা কেউ রেহাই পাবে না। আইন আইনের পথেই চলবে।অন্যদিকে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রক্ত নিয়ে যদি কেউ ব্যবসা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সে তৃণমূল, বিজেপি বা সিপিএম যেই হোক না কেন। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচারের একমাত্র ভিত্তি বলে আমি মত।পুলিশ জানায়, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই চক্র, আর কে বা কারা আছে তা জানার চেষ্টা করা হবে। শুক্রবার ধৃত তিনজনকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশের তরফে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *