অবশেষে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চালু ” লেভেল ২” ট্রমা কেয়ার ইউনিট
প্রথম দিনে সাতটি অস্ত্রপচারে দুই অর্থোপেডিক সার্জেন
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দীর্ঘ এক দশকের বেশি প্রতীক্ষার অবসান। শেষ পর্যন্ত নানা বাধা বিপত্তি কাটিয়ে সোমবার থেকে চালু আসানসোল জেলা হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিট। প্রথম দিনে এই ট্রমা কেয়ার ইউনিটে সবমিলিয়ে মোট সাতজন রোগীর অপারেশন বা অস্ত্রপচার হয়েছে। আসানসোল জেলা হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগের ঠিক উপরে এই ট্রমা কেয়ার ইউনিটটি ” লেভেল ২ ” পর্যায়ের। এদিন যে সাতজন রোগীর সাতটি অস্ত্রপচার হয়েছে সেগুলি হলো ১. প্রক্সিমাল ফিমার নেইল সাবট্রোক্যান্টারিক ফ্র্যাকচার, ২. সিআরআইএফ আন্ডার সি আর্ম ইন গ্রেট টো ফ্রাকচার,৩. গোড়ালি বা এ্যাঙ্কেল প্লেট অপসারণ বা রিমুভ্যাল, ৪. বোথ বন টেনস্ নেইল অপসারণ বা রিমুভ্যাল, ৫. জেইএসএস অপসারণ বা রিমুভ্যাল, ৬. ক্ল্যাভিকল প্লেটিং ও ৭. গার্ডলস্টোন অস্টিওটমি হিপ।














এই প্রসঙ্গে এদিন আসানসোল জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, এদিন সাতটি অপারেশন করেছেন দুজন অর্থোপেডিক সার্জন। তারা হলেন ডাঃ নির্ঝর মাজি এবং ডাঃ শিব শঙ্কর সোরেন। তাদের সঙ্গে অ্যানেস্থেটিস্ট হিসেবে ছিলেন ডাঃ শ্রীকান্ত গাঙ্গুলী ও ডাঃ প্রণব কুমার। চিকিৎসকদের সহযোগী হিসেবে ছিলেন নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা। সুপার আরো বলেন, শেষ পর্যন্ত সবার চেষ্টায় এই ইউনিট চালু করা সম্ভব হয়েছে। আসানসোল জেলা হাসপাতালের এই ট্রমা কেয়ার ইউনিট ২০১৪ সালে তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিলো।
প্রথমে বলা হয়েছিলো এই ইউনিট “লেভেল ৩ ” হবে। পরবর্তী সময়ে তার পরিবর্তন করে ” লেভেল ২ ” এ করা হয়েছিলো। তারজন্য ভবনও তৈরি করা হয়েছিলো। একটি এ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসার সরঞ্জামও এসেছিলো। কিন্তু সেই সবকিছু কোন কারণে হুগলি জেলার সিঙ্গুরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর আর তা চালু করা যায়নি। নতুন সরকার আসার পরে, এই ইউনিট চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সুপার আরো বলেন, এই ইউনিট মেল ও ফিমেল মিলিয়ে ১৫ শয্যার আপাততঃ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ২১ করা যাবে। এখন সপ্তাহে তিনদিন অর্থোপেডিক সার্জেনরা ট্রমা কেয়ার ইউনিটে অপারেশন করবেন। জেলা হাসপাতালের ৬ জন অর্থোপেডিক সার্জেন রোটেশনালি ( প্রতিদিন দুজন করে) এই অপারেশন করবেন। এই ট্রমা কেয়ার ইউনিটের জন্য নিউরো সার্জেন দরকার। যা এই মুহুর্তে জেলা হাসপাতালে নেই। তারজন্য রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে বলা হয়েছে।






