কলকাতার দুধ কান্ড বিরোধীদের আক্রমণ, শহর সুন্দর করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বার্তা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কলকাতার দুধ কান্ড নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকারের শহর পরিষ্কার করার কাজ ও পরিকল্পনা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে, তিনি এই ঘটনায় তার ও সরকারের সমালোচনা করার জন্য বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। সোমবার সকালে সমাজ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় মন্ত্রী বলেন, সেদিন কলকাতার পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতে কোন বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। তার পরিবারের সদস্যদেরকে সেখান থেকে শুধু মাত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।














ঐভাবে একটা ব্যস্ত রাস্তায় একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে, শুধু ওখানে নয়, এই দৃশ্য কলকাতার অনেক জায়গাতেই দেখা যায়।একটা এক্সিডেন্ট যখন তখন হয়ে যেতে পারে। তখন কে দায় নেবে তার? যে বা যারা মানবিকতা দেখালেন কাল থেকে, তারা ? যে সরকার বছরের পর বছর ধরে ফুটপাথে বসিয়েছেন মানুষদের, কর্মসংস্থান করেননি, শুধু মাত্র তোলাবাজি, ঘুষ আর যতরকমের করাপশন হয়, সেটা করে গেছেন গত ১৫ বছর ধরে। তারা আজ জনদরদী ?
মানবিকতার কথা বলছে। তিনি আরো বলেন, ফুটপাথ গরীব বা বড়োলোককে আলাদা করে চেনে না। ফুটপাথে যারা হাঁটছেন তারা সবাই মানুষ। সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছে, ফুটপাথকে হাঁটাচলার যোগ্য করে তুলতে হবে। ফুটপাথ মানুষের হাঁটাচলার জন্য, বসবাস করার জন্য নয়। আমি জানি, আমাদের সরকার অনেক বড় ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে, তাতে বিরোধীদের সমস্যা হবারই কথা। ফুটপাথ থেকে হকার সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধে। বেআইনি পার্কিং ও দখলদারি সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধে।
যারা রীতিমতো ফুটপাথ টাকে বাসস্থান বানিয়ে ফেলেছে, তাদের সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধে। মন্ত্রীর সাফ কথা, আপনাদের সুবিধা বা অসুবিধা দেখে তো সরকার কাজ করবে না। সরকার সব মানুষের কথা ভাববে। তাদের জন্য কাজ করবে।তিনি বলেন, এখন রাজ্যে বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্টের কথা হচ্ছে। নতুন শিল্পপতিদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।
শিল্প আনার চেষ্টা চলছে। যাদেরকে ডাকা হচ্ছে, তারা এসে যদি দেখেন রাস্তাঘাট যানজটে ভরা, রাস্তা ঘাটের অবস্থা খারাপ, শহরের এই পরিবেশ, তারা কি আসবেন? কেন আসবেন? তিনি আরো বলেন, রাস্তা থেকে ড্রেন, সব কিছু সংষ্কারের কাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা ঠিক করা হবে।
১৫ বছরের বাংলার যা অবস্থা হয়েছে। তা কোনো ভাবেই ১০০ দিকে ঠিক করা সম্ভব নয়। এমনটা নয় যে কোনও মন্ত্র বলে সব ঠিক হয়ে যাবে হঠাৎ করে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মানুষের কাছে। যা যা প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছি, তা বাস্তবায়িত করবার দায়িত্ব আমাদের। তা আমরা করবোই। সাধারন মানুষ আমার ও আমাদের সরকারের পাশে থাকবেন বলে আমি আশা করি।


