ASANSOL

বকেয়া বেতন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ সালানপুরে কোলিয়ারিতে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে কর্মীরা

*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বেতন বকেয়া, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষার চরম অভাব এবং একাধিক সুযোগ-সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকার অভিযোগে স্তব্ধ হয়ে গেল আসানসোলের সালানপুরে ইসিএলের মোহনপুর কোলিয়ারির কাজ। বুধবার সকাল থেকে খনি চত্বরে কাজ বন্ধ রেখে একযোগে বিক্ষোভের পথে হাঁটেন টিপার চালক, হেল্পার ও খনি কর্মীরা।দেড় বছর ধরে চলতে থাকা এই অনিয়মের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ক্ষোভ এদিন চূড়ান্ত রূপ নেয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই কর্মী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কোলিয়ারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারী কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সঠিক সময়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে না। দু’মাস অন্তর মিলছে পারিশ্রমিক। মজুরি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তাঁরা বলেন, বাইরের কর্মীদের তুলনায় স্থানীয় কর্মীদের ধারাবাহিকভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমানে খনিতে কাজ করেও হেল্পাররা পাচ্ছেন মাসে মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা এবং ড্রাইভারদের দেওয়া হচ্ছে ১৫-১৬ হাজার টাকা।মজুরির পাশাপাশি খনির ভেতরে ন্যূনতম পরিকাঠামো ও সুরক্ষার অভাব নিয়েও এদিন সরব হয়েছেন খনি কর্মীরা।

আন্দোলনকারীদের অন্য অভিযোগগুলি হলো খনি চত্বরে জরুরি অবস্থার জন্য কোনো ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। কর্মীদের কোনো পিএফ বা প্রভিডেন্ট ফান্ড) বা ইএসআইয়ের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। কর্মী হিসেবে প্রমাণ করার মতো কোনো বৈধ পরিচয়পত্র আইডি কার্ড দেওয়া হয়নি।আন্দোলন করা এক কর্মীর কথায়, আমরা যেভাবে খনির বিপজ্জনক ভেতরে ডিউটি করছি, সেখানে কাল যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তবে আমাদের এবং আমাদের পরিবারের কি হবে?

আমাদের ন্যূনতম সুরক্ষাটুকু কোথায়? আমরা চাই মালিক পক্ষ সরাসরি সামনে এসে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করুক।শ্রমিক সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া না মেটা পর্যন্ত কোলিয়ারির সমস্ত কাজ বন্ধ থাকবে। তবে এই বিক্ষোভ ও কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে খনি সংস্থা বা ইসিএল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *