ASANSOLDURGAPUR

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ দুর্গাপুরের আরো এক দম্পতি উদ্বেগে পরিবার ও পড়শিরা, খোঁজ নিলো পুলিশ

*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের নিখোঁজ দুর্গাপুরের অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা আরো এক দম্পতির। বুধবার রাতে এলাকার বাসিন্দা ঐ দম্পতির পড়শিরা আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের কাছ থেকে তাদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানতে পারেন। পড়শিরা এরপরে ঐ দম্পতির পরিবারের সদস্যদেরকে বিষয়টি জানান। জানা গেছে, গত ২১ আগষ্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন দম্পতি দেবাশিস বন্দোপাধ্যায় (৬২) এবং তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রা বন্দোপাধ্যায় (৫৯)। নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে আর কোনওভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।নিখোঁজ দম্পতিকে ঘিরে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

অম্বুজা টাউনশিপ এলাকাতেও ছড়িয়েছে উৎকণ্ঠা। তাঁরা কোথায় রয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁদের পরিস্থিতি কি, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। জানা গেছে, দেবাশিসবাবু দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সংঘমিত্রাদেবী শিক্ষকতা করতেন। অবসর সময়ে কৈলাস-মানস সরোবর ভ্রমণের উদ্দেশ্যেই তাঁরা ওই যাত্রায় বেরিয়েছিলেন।নেপালের বিপর্যয়ের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উৎকন্ঠা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে দম্পতির পড়শি বিপ্রদাস ঠাকুর ও নন্দিতা মানি বলেন, বুধবার রাতে পুলিশের একটি দল ঐ বাড়ির সামনে আসে। তখন আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশের তরফে নেপালের দুটো হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হয়। আমরা তা দেবাশীষবাবুর ভাইকে দিয়েছি। আমরার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। জানা যায়, দম্পতির মেয়ে মুম্বাইয়ে থাকেন। তারা নেপালে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তারা আপাততঃ কিছু বলতে পারেনি। ওরা জানিয়েছে তিন/চার দিনের আগে কিছু বলতে পারবে না। আরো জানা গেছে, ঠিক যে জায়গায় বুধবার সকাল নটার সময় এই বিপর্যয় হয়, সেখানেই এই দম্পতি ছিলেন।

সকাল সাতটার সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন। দম্পতি যাতে সুস্থ ও নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসেন, সেই প্রার্থনাই করছেন আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা।পুলিশ জানায়, নিখোঁজ দম্পতির খোঁজে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *