ASANSOL

আসানসোলের কলেজে ছাত্রদের মধ্যে মারামারি বহিরাগত জড়িত থাকার অভিযোগ, প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবিতে এবিভিপির বিক্ষোভ

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়:* আসানসোলের বিবি কলেজে অনুষ্ঠান চলাকালীন ছাত্রদের মধ্যে মারামারির ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার হওয়া এই ঘটনায় বহিরাগতদেরও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই বহিরাগতরা তৃনমুল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপির সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কলেজে আসে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী জখম হয়। তারা এবিভিপির সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে।

তাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়েছে এই ঘটনার পরে এবিভিপি বা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সমর্থকেরা কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ অমিতাভ বসুর পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ দেখায়। দেওয়া হয় স্লোগানও। এই প্রসঙ্গে এবিভিপির আসানসোল জেলা নেতা ওম প্রকাশ মিশ্র বলেন, প্রিন্সিপালকে কোন কিছু বলা হলে তিনি কোন পদক্ষেপ নেননা। তিনি বহিরাগতদের কলেজে আসার ব্যাপারে মদত দিচ্ছেন।

আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। জানা গেছে, সিসিটিভিতর ফুটেজ খতিয়ে দেখে মারামারিতে জড়িত ছাত্র ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কলেজের তরফে আসানসোল দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, কলেজে একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েকজন ছাত্রের মধ্যে প্রথমে মারামারি হয়।

ঘটনার পর কয়েকজন ছাত্র তাঁর কাছে অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয় এবং পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। পরে আবারও সিসিটিভির ফুটেজে মারামারির ছবি ধরা পড়ে। পরে পুলিশ কলেজে আসে।প্রিন্সিপালের দাবি, এবিভিপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বা এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। যদিও, তিনি বলেন, সরকারি ভাবে কোন ছাত্র সংগঠন এই মুহুর্তে কলেজে নেই। তবে সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্সিপাল আরও অভিযোগ করেন, দুই ছাত্রী শিক্ষকদের সঙ্গে অভব্য ভাষায় কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, কলেজে প্রায় সাড়ে সাত থেকে আট হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। মাত্র ১০-১২ জন ছাত্রছাত্রীর কারণে কলেজের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।আই-কার্ড ছাড়া কলেজে প্রবেশ এবং প্রিন্সিপালের পদ ছাড়তে না চাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রিন্সিপাল বলেন, এই অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

নতুন সেমেস্টার শুরু হওয়ায় প্রযুক্তিগত কারণে কারও আই-কার্ড এখনও হাতে না পৌঁছলে টাকা জমা দেওয়ার প্রমাণ দেখিয়েও প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেই রসিদ ছাত্রছাত্রীদের মোবাইলেও রয়েছে।তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু ছাত্র নিরাপত্তারক্ষীদের বাধা অতিক্রম করে জোর করে কলেজে ঢোকার চেষ্টা করছে।কলেজে পুলিশ পিকেটিং নিয়ে প্রিন্সিপালের বক্তব্য, কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে পুলিশকে প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে জানানো হয়।

তাঁর দাবি, পুলিশ জানিয়েছে, সারাক্ষণ কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে পুলিশ মোতায়েন রাখা সম্ভব নয়। কোনও ঘটনা ঘটলে খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে আসে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার থেকে থেকে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, পুলিশ জানায়, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *