ASANSOL

আসানসোলে গ্রন্থাগারিক দিবস পালিত, গ্রন্থাগারিক পেশার ভবিষ্যৎ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা

*বেঙ্গল মিরর,* বিশেষ সংবাদদাতা ।আসানসোল জেলা গ্রন্থাগারের হলে পালিত হল গ্রন্থাগারিক দিবস। এই আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন এবং সহযোগিতায় ছিল আজকের যোধন সংবাদপত্র। আলোচনার বিষয় ছিল গ্রন্থাগারিক পেশার ভবিষ্যৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন কর্মসংস্থান।অনুষ্ঠানে অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল বি বি কলেজের গ্রন্থাগারিক ডঃ অভিজিৎ চক্রবর্তী।

তিনি গ্রন্থাগারিক পেশার ভবিষ্যৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যবিজ্ঞান এবং নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন । তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “এআই গ্রন্থাগারিক পেশাকে সংকটে ফেলতে পারবে না; বরং যারা এআই ব্যবহার করবেন, তারাই গ্রন্থাগারের ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন।

এআই প্রতিস্থাপন করবে সেইসব গ্রন্থাগারকে, যারা নিজেদের কাজে উদাসীন।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাক্তন কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনার তথা অধ্যাপক ভাগবত মাঝি। তিনি বলেন পাঠাগার গুলি আধুনিকীকরণের সাথে সাথে এআইএ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই এসে যায়।

একে ভয় পেলে চলবে না। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম বক্তা ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক এবং সমাজকর্মী বিশ্বদেব ভট্টাচার্য। বিশ্বদেব বাবু বলেন করোনার সময় মানুষ প্রথম উপলব্ধি করেছিল অনলাইনে বই পড়ার খবরের কাগজ পড়া কত জরুরী এবং এই কাজটি করেছিলেন সিধু কানু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন লাইব্রেরিয়ান এবং বিশিষ্ট লেখক প্রণব হাজরা ১৮টি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সারাদেশে তিনি তখন এই কাজ করেছিলেন।

পাঠাক আর গুলির উন্নয়নের জন্য আজও তিনি লড়াই চালাচ্ছেন। বিশ্বদো বাবু বলেন তার নিজের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন গত সরকারের আমলে জেলার অর্ধেকের বেশি পাঠাগারী লাইব্রেরিয়ান নেই। নিয়মিত সেগুলি খোলে না ফলে পাঠককে বৈমুখী করতে গেলে নিয়মিত পাঠাগার খোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে পুরনো সংবাদপত্র বই পত্রকে বরং ডিজিটালাইজ করার দিকে যেতে হবে। এক্ষেত্রে এই আইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য মনে রাখতে হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আসলে একটা কৃত্রিম বিষয় এখানে ইমোশন বা আবেগ নেই তার জন্য মানুষকে দরকার।

তাই লাইব্রেরিয়ানরা একে ভালোবেসে কাছেই টেনে নিন। অধ্যাপক ও সাহিত্যিক ডক্টর শীতল গঙ্গোপাধ্যায়, চিকিৎসক ও সাহিত্যিক ডঃ তিলোক পুরোকায়স্থ, বীরেশ্বর মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত সংক্ষেপে বক্তব্য রাখেন।ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রণব হাজরা বলেন, “১২ আগস্টকে লাইব্রেরিয়ানস’ ডে হিসাবে পালন করা হয়। যদিও লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা এবং লাইব্রেরিয়ানের প্রভাব সমাজের সর্বস্তরের মানুষের, কিন্তু এই পেশার বাইরে আর কোথাও এই দিনটি পালিত হয় বলে মনে হয় না।

আজকের দিনে, যখন বলা হয় ফেসবুক-টুইটারের যুগে লাইব্রেরির প্রয়োজন নেই, তখনই মনে করিয়ে দিতে হয়—সব উত্তর ইন্টারনেটে নেই। লাইব্রেরি এবং লাইব্রেরিয়ানই সত্যের বাতিঘর।”অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ভাবনা—• তথ্যের অতিভার নয়, সত্যের সন্ধান• লাইব্রেরিয়ান: জীবন্ত মূল্যায়নের কেন্দ্রআজকের যোধনের সম্পাদক বাসুদেব মন্ডল বলেন, আসানসোলে আয়োজিত এই আলোচনা সভা সমাজে লাইব্রেরি ও লাইব্রেরিয়ানের অপরিহার্য ভূমিকা নতুনভাবে তুলে ধরবে।

লাইব্রেরিয়ানস’ ডে কেবল একটি দিন নয়, বরং জ্ঞানের বাতিঘরকে সম্মান জানানোর এক স্মারক।রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ১৫০ জনগ্রন্থাগার পেশাজিবী এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এখানে অতিথিদের হাতে রাখী পড়িয়ে এবং স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মান জানানো হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *