রানিগঞ্জে থরে থরে সাজানো নকল তেলের সাম্রাজ্য! বাড়ির আলমারিতেই ব্র্যান্ডের লেবেল, ছিপি, টিন – পর্দাফাঁস করল ফুড সেফটি দপ্তর
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানিগঞ্জ:* সকাল থেকে পেড়া-বাতাসার দোকান, মশলার দোকান, চানাচুর ফ্যাক্টরি ঘুরে শেষমেশ বড়সড় পর্দাফাঁস গির্জাপাড়ায়। শুক্রবার রানিগঞ্জ শহর জুড়ে ভেজাল-বিরোধী ম্যারাথন অভিযানে নামল রাজ্য খাদ্য দপ্তর, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও মেট্রোলজি বিভাগ। আর সেই অভিযানেই উঠে এল ভয়ঙ্কর ছবি – বাড়িতে বসেই চলছিল নামীদামি কোম্পানির নকল ভোজ্য তেল তৈরির কারবার!*সকাল থেকে কী কী হল অভিযানে?*১. *থানার সামনে থেকে শুরু:* পেড়া-বাতাসার দোকানে রং মেশানো হচ্ছে কি না, পরিচ্ছন্নতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয়।২. *মশলায় গরমিল:* একটি মশলার দোকানে গোটা হলুদ পরীক্ষা করে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় উৎস জানতে চাওয়া হয়েছে।














৩. *চানাচুর ফ্যাক্টরি:* শিশুবাগান কালালীগলির কারখানায় বড় ভেজাল না মিললেও হাইজিন ও কাগজপত্র নিয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।*আসল খেলা সারদা পল্লীতে – যেখানে একটি বন্ধু ঘর খুলে আলমারি খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ*প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এখানে তেলে ভেজাল হচ্ছে – যা নিয়ে গোপন খবরে সারদা পল্লীতে উৎপল গড়াই নামে এক ভোজ্য তেল সরবরাহকারীর বাড়িতে হানা দেয় দলটি। ভিতরে ঢুকে আধিকারিকরা হতবাক।
বাড়ির এক প্রান্তে থাকা গোদাম ঘরের আলমারিতে, বস্তা ভর্তি করে রাখা – রানিগঞ্জের স্থানীয় ও বাইরের নামী কোম্পানির ভোজ্য তেলের *নকল লেবেল, ছিপি, স্টিকার ও টিন ভর্তি তেল।* অভিযোগ, সস্তার তেলে রাসায়নিক মিশিয়ে ওই টিনে ভরে আসল কোম্পানির লেবেল লাগিয়ে দোকানে দোকানে সাপ্লাই করত ওই ব্যবসায়ী।যে কোম্পানিগুলির লেবেল পাওয়া গিয়েছে, তাদের মালিকদের ডেকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা জানান, তাঁরা কাউকে লেবেল ব্যবহারের অনুমতি দেননি। এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি।
তাঁরা পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।*ভোজ্য তেলে ভেজাল মানে সরাসরি বিষ!*এটাই সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, ভোজ্য তেলে যদি –- *কোন কৃত্রিম রাসায়নিক, আর্গিমন তেল বা কৃত্রিম রং* মেশানো হয়, তবে তার ফলে লিভার ও কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।- দীর্ঘদিন খেলে *ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও দৃষ্টিশক্তি নষ্টের* ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে।- শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই ভেজাল তেল প্রাণঘাতী।> আপনি যে তেলটি রান্নায় ব্যবহার করছেন, তা আসল তো?
লেবেলের আঠা, ছিপির সিল, তেলের গন্ধ ও রং একবার ভালো করে দেখে নিন। সন্দেহ হলেই ১০০% অভিযোগ করুন।*আইনে কি আছে?*ফুড সেফটি অফিসার অজয় ভান্ডারী জানান, নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।আইন বলছে –- *FSSAI আইন, ২০০৬ এর ৫৯ ধারা*
অনুযায়ী, নিরাপদ নয় এমন খাদ্য বিক্রি করলে *যাবজ্জীবন পর্যন্ত জেল ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা* হতে পারে।- লেবেল নকল করলে *কপিরাইট আইন ও ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা* হবে।প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট – “ভেজালের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলবে।”কিন্তু প্রশ্ন একটাই, প্রতিদিনের রান্নার তেলটাই যদি নকল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?


