থানার দায়িত্বে নেতা আসানসোলে বিজেপির ভাইরাল চিঠি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা, কংগ্রেসের প্রশ্ন ভুয়ো, দাবি বিধায়কের
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলে বিজেপির একটি চিঠি ভাইরাল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা আসানসোল দক্ষিণ মণ্ডল-১ র সভাপতি সোমনাথ মণ্ডলের নাম এবং লেটারহেডের ঐ চিঠি নিয়ে কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এই চিঠিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। ২৭ আগষ্ট তারিখ দেওয়া ভাইরাল হওয়া ঐ চিঠিতে থানা এবং হাসপাতাল সংক্রান্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।













পরে গত ৫ সেপ্টেম্বর আরো একটি চিঠিতে সেই দায়িত্ব ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। চিঠিতে সিলও মারা আছে। দুটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।৫ সেপ্টেম্বর লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, যে থানা ও হাসপাতাল সংক্রান্ত যে ব্যক্তিদের নাম এবং দায়িত্ব আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করা হল।
চিঠি বয়ান অনুযায়ী, আগে দায়িত্ব পাওয়া কর্মীরা এখন থেকে সংশ্লিষ্ট থানা বা হাসপাতালের সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমন্বয়ের জন্য অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন না।এর আগের চিঠিতে আসানসোল দক্ষিণ পিপি এবং হিরাপুর থানার জন্য আলাদা আলাদা বিজেপি প্রতিনিধিদের নাম দেওয়া হয়েছিল। আসানসোল দক্ষিণ পিপির জন্য উত্তম কর্মকার, অনুপ সিং এবং রাহুল রায়ের নাম বলা হয়।
আর হিরাপুর থানার প্রতিনিধি হিসেবে অরুণ বাউরি, কাজল চক্রবর্তী এবং রহিত কেওড়ার নাম ছিলো।প্রথম চিঠিতে বলা হয়েছিল, এই প্রতিনিধিরা আসানসোল দক্ষিণ মণ্ডল-১ এর পক্ষ থেকে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং মণ্ডলের মানুষের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।তবে পরে চিঠিতে এই সমস্ত দায়িত্ব প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়।
আর এ নিয়েই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ তীব্র হয়েছে।কংগ্রেস নেতা প্রসেনঞ্জিৎ পৈইতুন্ডী এই পুরো বিষয় নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে একজন মণ্ডল সভাপতিকে থানা চালানো বা পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কে দিয়েছে? তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিজেপি কি পুলিশ রাজ কায়েম করতে চায়?
যদিও ৪ মে’র বিকেল থেকে তা বাংলায় শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ৪ মে’র সন্ধ্যা থেকে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে। তার অভিযোগ, পুলিশ তৃণমূলের জার্সি খুলে বিজেপির গামছা পরে নিয়েছে।কংগ্রেস নেতা আরো অভিযোগ করেন যে, কিছু পুলিশ আধিকারিক সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছেন। সম্ভবত সেই কারণেই বিজেপির কিছু লোক তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, গলায় বিজেপির গামছা পরে কোনও ব্যক্তিকে থানায় পুলিশ আধিকারিকদের পাশে বসিয়ে দিলে সংবিধানের অধীনে চলা পুলিশ ব্যবস্থা বদলে যায় না।হাসপাতাল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রসেনঞ্জিৎ পৈইতুন্ডী। তার বক্তব্য, হাসপাতালে রোগীদের সমস্যা তোলা, রক্তের ব্যবস্থা, অপারেশনের প্রয়োজন এবং ডাক্তারের ঘাটতির মতো বিষয় সামনে আনা সাধারণ নাগরিকের অধিকার।
এর জন্য কোনও ব্যক্তিকে বিজেপির পতাকা বা গামছা সহ বিশেষ অধিকার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।অন্যদিকে, আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় ভাইরাল চিঠিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আসানসোল দক্ষিণ মণ্ডল-১ এর বিজেপি সভাপতি সোমনাথ মণ্ডলকে আমি খুব কাছ থেকে চিনি।
তার মতে সোমনাথ মণ্ডল এমন কোনও কাজ করতে পারেন না।বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, কেউ সোমনাথ মণ্ডলের নাম ও পদ ব্যবহার করে ভুয়ো চিঠি তৈরি করেছে। পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে। তার মতে এর উদ্দেশ্য একজন পরিশ্রমী ও নিবেদিত বিজেপি কর্মীকে বদনাম করা এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।কৃষ্ণেন্দুবাবু আরো বলেন, বিজেপি এই ধরনের কার্যকলাপ করে না এবং এমন কাজকে প্রশ্রয়ও দেয় না।আপাতত আসানসোলে এই ভাইরাল চিঠিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের দ্বৈরথ প্রকাশ্যে। গোটা বিষয়টি এখন আস্তে আস্তে রাজনৈতিক চাপানওতোরের রূপ নিচ্ছে।


