আসানসোলের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি হচ্ছে, শিল্পায়ন, বন্ধ কারখানার জমির পুনর্ব্যবহার ও এলিভেটেড করিডর : অগ্নিমিত্রা পাল
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোল শহরকে আরো পরিকল্পিত ও আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানার জমি পুনর্ব্যবহার, দামোদরের উপর সেতু নির্মাণ, বিকল্প রাস্তা এবং এলিভেটেড করিডর তৈরির মতো একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই সমস্ত বিষয়ের কথা জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল।শিল্পের জন্য জমির সংস্থান প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আসানসোল ও দুর্গাপুরকে স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে এই এলাকায় নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ এলে তাদের জন্য জমির প্রয়োজন হবে। সেই কারণে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।









পাশাপাশি, বর্তমানে যে সমস্ত জমি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলিকেও কীভাবে শিল্পের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে।দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলির জমি পুনরায় কাজে লাগানোর বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দুস্থান লিভার, ব্লু ফ্যাক্টরি এবং হিন্দুস্থান কেবলসের মতো বন্ধ কারখানাগুলির বিষয় ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য বন্ধ কারখানার বিষয়ও রাজ্যে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই সমস্ত জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আইনি জটিলতা রয়েছে। সেই লিটিগেশন কিভাবে মিটিয়ে জমিগুলিকে ফের শিল্পের কাজে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে রাজ্যস্তরে আলোচনা চলছে।




অগ্নিমিত্রা পাল আরো বলেন, আসানসোলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে দামোদরের উপর সেতু নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা। বাঁকুড়া ও আসানসোলের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দামোদরের উপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য রাইটসের মাধ্যমে সমীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, বিধায়ক থাকাকালীনও তিনি এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দাবি তুলেছিলেন। এবার সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।এর পাশাপাশি, কালীপাহাড়ি থেকে দামোদরের দিকে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। ভবিষ্যতে একটি পৃথক পরিকল্পিত টাউনশিপ গড়ে তোলার ভাবনাও রয়েছে। নতুন টাউনশিপকে কেন্দ্র করে উন্নত রাস্তা, নাগরিক পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পুরনো পরিকল্পিত টাউনশিপগুলির আদলে আসানসোলেও নতুন করে এমন একটি এলাকা গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চলে এলিভেটেড করিডর নির্মাণ।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুধুমাত্র বর্তমান যানজটের কথা মাথায় রেখে নয়, আগামী ৩০ বছরে এলাকার জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা কতটা বাড়তে পারে, সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই পরিকাঠামো পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ সহ গোটা শিল্পাঞ্চলে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ বাড়বে। সেই চাপ সামাল দিতে এলিভেটেড করিডরের মাধ্যমে মূল যান চলাচলকে ব্যস্ত শহুরে রাস্তার উপর দিয়ে পরিচালিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।নির্দিষ্ট জায়গায় উঠানামার ব্যবস্থা রেখে এই করিডর তৈরি করা হলে বিভিন্ন এলাকার যানবাহনকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনোর সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে বিকল্প রাস্তা, নতুন টাউনশিপ এবং দামোদরের উপর সেতু। এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আসানসোলের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।শিল্পের জন্য জমি, বন্ধ কারখানার জমির পুনর্ব্যবহার এবং আগামী দিনের যানবাহন ও জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো, এই তিনটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই আসানসোলের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

