রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে তাণ্ডব, নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর, নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতি
*বেঙ্গল মিরর, বুদবুদ, (পূর্ব বর্ধমান), রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* চিকিৎসায় গাফিলতিতে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে পূর্ব বর্ধমানের মানকর গ্রামীন হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালালেন মৃতের আত্মীয়-পরিজনরা। শুধু ভাঙচুরই নয়, প্রাণ বাঁচাতে ঘরের ভেতর আশ্রয় নেওয়া নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গভীর রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদের মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে রবিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।









মৃত রোগীর নাম বুধন বাউরি (৫৫)।হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি কোনার বলেন, শনিবার রাতে মানকরের বাসিন্দা বুধন বাউড়ি (৫৫) নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সরা তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার পর তাঁকে কিছুক্ষণ হাসপাতালের অবজারভেশনে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন জানালে এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেই বুধনবাবুকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।





অভিযোগ, বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই অর্থাৎ প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় বুধন বাউড়ির পরিবার ও এলাকার বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ঢুকে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। পরিবারের দাবি, বাড়ি ফেরার পথে পথেই বুধন বাউড়ির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে সঠিক ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতাল চত্বরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উত্তেজিত জনতা জরুরি বিভাগের ওষুধপত্র, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বুঝে ডিউটিতে থাকা নার্স ও নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা একটি ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাণ্ডবকারীরা সেই ঘরের দরজায় লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার পুলিশ। পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রোগীর মৃতদেহ পুলিশ নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় যুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, এই ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অসংগঠিত কর্মীরা। রবিবার সকাল থেকেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালের মূল গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন তারা।
আন্দোলনরত এক চিকিৎসকের কথায়, কর্মস্থলে যদি আমাদের প্রাণসংশয় তৈরি হয়, তবে আমরা পরিষেবা দেব কিভাবে ? যতক্ষণ না প্রশাসন আমাদের লিখিত আশ্বাস ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা দিচ্ছে, আমাদের এই বিক্ষোভ চলবে। তবে মানবিকতার খাতিরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

