চিত্তরঞ্জনে কোয়ার্টার থেকে ৩ বছর ধরে নিখোঁজ রেলকর্মীর কঙ্কাল উদ্ধার, চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ
*বেঙ্গল মিরর, চিত্তরঞ্জন, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রেল কোয়ার্টার বা আবাসনের ভেতর থেকে উদ্ধার হলো তিন বছর ধরে নিখোঁজ এক রেলকর্মীর কঙ্কাল। সোমবার চিত্তরঞ্জন রেল শহরের ১১ নম্বর রাস্তার ১১/বি কোয়ার্টার থেকে এই নরকঙ্কাল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মৃত রেল কর্মীর নাম প্রকাশ চন্দ্র রাউত রায় (৫৯)। ঘটনাটি আসলে কি তার তদন্ত শুরু করেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল এদিনই কোয়ার্টারে এসে নমুনা সংগ্রহ করেছে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশ চন্দ্র রাউত রায় কোয়ার্টারে একাই থাকতেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান।













পরিজনেরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। শেষ পর্যন্ত গোটা বিষয়টি জানিয়ে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে চিত্তরঞ্জন থানায় একটি লিখিত নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা কোয়ার্টারটি নিয়মমাফিক রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার উদ্যোগ নেন তাঁর পরিবার। সেই উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল প্রকাশবাবুর পরিজনেরা কোয়ার্টারের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে যাতায়াত শুরু করেন।

তাদের মূল বাড়ি রূপনারায়ণপুর হলেও প্রয়োজনে এই কোয়ার্টারে যাতায়াত ছিল।বর্তমানে প্রকাশবাবুর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার তাঁর ভাইপো সুপ্রতিম রাউত রায় কোয়ার্টারে থাকা একটি বাইক সরাতে গেলে হঠাৎই ঘরের ভেতর কয়েকটি হাড়গোড় দেখতে পান। ঘরের যে অংশটিতে আগে পুজো করা হতো, ঠিক সেখান থেকেই কঙ্কালটি উদ্ধার হয়।খবর পাওয়ার সাথে সাথেই চিত্তরঞ্জন থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ শেখ ইসমাইল আলি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (কুলটি) জাবেদ হোসেন এবং সালানপুর বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
খবর দেওয়া হয় ফরেনসিক টিমকে। পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে প্রাথমিক তদন্তের পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ করেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চিত্তরঞ্জন রেল কারখানার কর্মী প্রকাশবাবু একসময় অত্যন্ত পরোপকারী ছিলেন। দুঃস্থ শিশুদের পড়াশোনা ও সামাজিক কাজে তিনি নিয়মিত অর্থ সাহায্য করতেন। তবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কয়েক বছর আগে থেকে মানসিক চাপে ছিলেন তিনি।
তবে, গত পাঁচ মাস ধরে পরিবারের সদস্যরা এই কোয়ার্টারে যাতায়াত করা সত্ত্বেও এতদিন কেন আস্ত একটা কঙ্কাল তাদের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি খুন, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে। তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশাও। পুলিশ জানায়, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কঙ্কালের ময়নাতদন্ত করার পাশাপাশি অন্য পরীক্ষাও করা হবে। তার রিপোর্ট পেলে জানা যাবে, ঠিক কি কারণে এই রেল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

