সালানপুরে ১৯ নং জাতীয় সড়কে গুলিকাণ্ড, চিত্তরঞ্জন থেকে মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ১৯ নং জাতীয় সড়কে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে আসানসোলে নাইট ডিউটিতে যাচ্ছিলেন হরিদাস লায়েক। সেই সময় হরিদাস লায়েককে (৪৩) গুলি করা হয়। সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সালানপুর থানা পুলিশের হাতে এল বড় সাফল্য। পুলিশ তদন্ত করে চিত্তরঞ্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত অজয় রামকে গ্রেফতার করেছে।পুলিশ শনিবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে।











যাতে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকি পলাতকদের সন্ধান পেয়ে তাদেরও গ্রেফতার করা যায়।প্রাথমিক তদন্তে একে ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার এক নতুন দিক সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার রাতে বাইক আরোহী তিন অভিযুক্তই মদ্যপ অবস্থায় ছিল। রাস্তায় হরিদাস লায়েকের সঙ্গে ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে তাদের বচসা হয়। বিতর্ক বাড়লে অভিযুক্তরা ডিপিএস স্কুলের কাছাকাছি হরিদাসকে আটকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে পিস্তল বার করে।


তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তা লাগে হরিদাসের পায়ে।উল্লেখ্য, ধানগুড়ির নিবাসী হরিদাস লায়েক প্রতিদিনের মতো আসানসোলের শ্রী হরি গ্লোবাল স্কুলে নাইট ডিউটির জন্য যাচ্ছিলেন। গুলি লাগার পরেও তিনি সাহসিকতা দেখিয়ে নিজের মোবাইল ফোনে অভিযুক্তদের ভিডিও করার চেষ্টা করেন। যার জেরে ঘাবড়ে গিয়ে তিন দুষ্কৃতী ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
পুলিশ ঘটনার পরে এলাকায় গিয়ে তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে আসানসোল ইএসআই হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসার পরে সুস্থ হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরে গোটা ঘটনার তদন্ত নেমে পুলিশ অজয় রামকে শুক্রবার গ্রেফতার করে। পুলিশের রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া অজয় রামের পুরনো অপরাধের ইতিহাস রয়েছে।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন থানা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও একাধিক মামলা রয়েছে। তারজন্য সে আগেও জেলও খেটেছে ।জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার ঠিক পরেই আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার ড. প্রণব কুমার, ডিসিপি (ওয়েস্ট) সানা আখতার এবং ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর বা ডিডির অফিসাররা ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোল উদ্ধার করেছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে , অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার থেকে তথ্যের ভিত্তিতে বাকি দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।

