ASANSOL

আসানসোলে ৬০ ফুট রাস্তা তৈরি নিয়ে বিতর্ক ক্ষতিপূরণের দাবি পুর কমিশনারের দ্বারস্থ জমির মালিকেরা

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও সৌরদীপ্ত সেনগুপ্তঃ* কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কথা উল্লেখ করে আসানসোল পুরনিগমের কমিশনারের সঙ্গে দেখা করলেন আসানসোলের ইসমাইলের জমির মালিকরা। তারা জানালেন ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমিতে নির্মাণকাজের অনুমতি দেওয়া হবে না।আসানসোলের ইসমাইল এলাকায় প্রস্তাবিত ৬০ ফুট রাস্তা তৈরি করা নিয়ে এইভাবেই আবারও বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের জন্য তাদের জমি ব্যবহার করা যাবে না, এই দাবিতে জমির মালিকরা বুধবার আসানসোল পুরনিগমের কমিশনার দিলীপ মিশ্রর সঙ্গে দেখা করে।

তার কাছে তারা তাদের দাবি পেশ করেন। তাদের অভিযোগ, ঐ রাস্তা নির্মাণের জন্য নতুন টেন্ডার করা হয়েছে বলে খবর। কিন্তু তারা এখনও পর্যন্ত উল্লিখিত জমির জন্য ক্ষতিপূরণ পাননি। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের আগের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে জমির মালিকরা জানান তারা প্রাসঙ্গিক নথি এবং আদালতের আদেশের প্রতিলিপি আসানসোল পুরনিগম (এএমসি), আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ) এবং পুলিশ আধিকারিকদের কাছে জমা দিয়েছেন।

তারা জোর দিয়ে বলেন যে, জমির মালিকানা এবং ক্ষতিপূরণের সমস্যার সমাধান না করে নির্মাণকাজ শুরু করা উচিত নয়।জমি মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের হিরাপুর থানা এলাকার অন্তর্গত মৌজা ইসমাইল, জে.এল. নং ২২-এর জমিতে রয়েছে এই ৬০ ফুট রাস্তা। তাঁরা দাবি করেন যে, জমিটি ব্যক্তিগত প্রজাস্বত্বের এবং এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বত্বলিপিতে রেজিষ্ট্রেশন করা রয়েছে।জমির মালিকদের অভিযোগ, গত ৮ অক্টোবর কিছু শ্রমিক ঐ জমিতে রাস্তা নির্মাণের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি জমা করতে শুরু করে।

জমি মালিকরা যখন পুরো বিষয়টি জানতে পারেন, তখন কাজ বন্ধ করার অনুরোধ করেন। তখন তাঁদের জানানো হয় , এই কাজটি আসানসোল পুরনিগম ও এডিডিএর নির্দেশে করা হচ্ছে।জমিমালিকরা জানান যে, যদি জমিটি রাস্তা নির্মাণের জন্য ব্যবহার করতেই হয়, তবে জমি অধিগ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

এই প্রসঙ্গে জমি মালিক রঞ্জিত রায় এদিন বলেন, আমরা শুধু আমাদের জমির জন্য ক্ষতিপূরণ চাই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ৬০-ফুট রাস্তার জন্য ব্যবহৃত জমির যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি করে আসছি। কিন্তু আমরা এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। তিনি আরো বলেন, আমরা এদিন আসানসোল পুরনিগমের কমিশনারের কাছে আমাদের জমির ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে জানতে এসেছিলাম।

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত নথি আমাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও জমির মালিকরা এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। তা সত্ত্বেও, আমরা এখন একটি নতুন করে টেন্ডারের খবর পেয়েছি।তিনি জানান যে, নথি এবং আদালতের আদেশের প্রতিলিপি সবাইকে দেওয়া হয়েছে। যদি আমরা আমাদের জমির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাই, তবে রাস্তা নির্মাণে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।

ইসমাইলের বাসিন্দা পঙ্কজ কর্মকারও জমির মালিকদের পক্ষে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, রাস্তা নির্মাণের বিরোধী আমরা নই। কিন্তু উন্নয়নের জন্য ব্যক্তিগত জমি ব্যবহারের আগে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত।পঙ্কজ কর্মকার বলেন, আমরা ৬০ ফুট ইসমাইল রোডের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে এসেছি। সরকার যদি রাস্তা তৈরি করতে চায়, তবে জমি অবশ্যই আইনসম্মতভাবে অধিগ্রহণ করতে হবে।

জমি অধিগ্রহণ না করে এবং জমির মালিকদের না জানিয়ে কিভাবে টেন্ডার দেওয়া হলো?এখন দেখার এ বিষয়ে আসানসোল পুরনিগম কর্পোরেশন, এডিডিএ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে, জমির মালিকদের অভিযোগ ও হাইকোর্টের পুরোনো নির্দেশ নিয়ে আসানসোল পুরনিগম ও এডিডিএর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। প্রসঙ্গতঃ, মঙ্গলবারই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক অনুষ্ঠানে এই ৬০ ফুট রাস্তা তৈরির কাজের শিলান্যাস করেন। প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা এই রাস্তা তৈরিতে খরচ করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *