Friday, July 24, 2026
Latest:

Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Friday, July 24, 2026
Latest:
Bengal Mirror
ASANSOLBARABANI-SALANPUR-CHITTARANJAN

নতুন পুকুর খনন, রাস্তা সংস্কার, জল সহ একাধিক বিষয়ে জোর সালানপুর ব্লকের উন্নয়ন বৈঠকে আলোচনা

*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুর ব্লকে আগামী দিনে উন্নয়নের রূপরেখা ঠিক করতে পঞ্চায়েত সমিতির জেনারেল বডি মিটিং মঙ্গলবার হলো। এদিনের এই মিটিংয়ে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাসের পৌরহিত্যে ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েত, সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষরা অংশ নেন। ছিলেন বিধায়ক অরিজিৎ রায়ের প্রতিনিধি চিন্ময় তেওয়ারি সহ অন্যান্যরা। ‌উল্লেখ্য, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের পর এবার ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের অর্থে উন্নয়নের কাজ শুরু হচ্ছে। সেজন্য পঞ্চায়েতগুলি নির্দিষ্ট উন্নয়নের রূপরেখা ১৫ জুনের মধ্যে তৈরি করে জমা দেয়।

কিভাবে এই উন্নয়নের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সেই বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করেন ব্লক ইনফরমেশন অফিসার শুভাশিস রায়। বৈঠকে বিডিও শ্রীবিশ্বাস জোর দেন সঠিক পরিকল্পনা সময়মতো রূপায়ণ করার বিষয়ে। ‌জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান বৈঠকে বলেন, কম পরিসরের কাজগুলি যাতে সঠিকভাবে পঞ্চায়েতগুলি তুলে ধরে এবং পঞ্চায়েত সমিতি মাঝারি মানের কাজগুলিকে সমাধা করার উদ্যোগ নেয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বড় অঙ্কের কাজ জেলা পরিষদ এবং বিধায়ক তহবিল ও অন্যান্য ফাণ্ড থেকে যাতে করা যায় সেই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

এদিনের বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে কুসুমকানালি থেকে কল্যাণগ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার, রূপনারায়ণপুর থেকে হিন্দুস্তান কেবলস আপার কেশিয়া পর্যন্ত প্রধান রাস্তাটির সংস্কার এবং ডাবর মোড়ে জল জমার হাত থেকে রেহাই পেতে অবিলম্বে নর্দমা ও কালভার্ট নির্মাণের বিষয়গুলি। ‌বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কের প্রতিনিধি চিন্ময় তেওয়ারির মাধ্যমে হিন্দুস্তান কেবলস রোড যাতে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডার উদ্যোগে সংস্কার করা হয় সেই প্রসঙ্গে বিধায়কের দ্রুত হস্তক্ষেপের কথা বলা হয়। উল্লেখ্য, বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছানোর প্রকল্প জল জীবন মিশনের কাজ এখন থমকে আছে।

এই বিষয়ে রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করবে বলে জানা গেছে। তবে পঞ্চায়েতগুলিও যাতে তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে এলাকার জল সমস্যা সমাধানে টিউবওয়েল, সাবমারসিবল ইত্যাদির ব্যবস্থা করে সেই কথাও আলোচিত হয়।উল্লেখ্য, পরিকল্পনার ভিত্তিতে এক একটি পঞ্চায়েত ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে ২৫-৩০ লক্ষ টাকা থেকে ৭০-৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পেতে পারে। এই অর্থের ৫০ শতাংশ (টায়েড ফাণ্ড) পঞ্চায়েতগুলি জল এবং স্যানিটেশনের জন্য ব্যয় করে। ‌বাকি (আনটায়েড ফান্ড) ৫০ শতাংশের মধ্যে কুড়ি শতাংশ রাস্তার কাজে এবং বাকি ৩০ শতাংশ পঞ্চায়েত নিজের পরিকল্পনা মত উন্নয়নের কাজে ব্যয় করতে পারে। এবার পঞ্চায়েত গুলির প্রাপ্য অর্থ যাতে সম্পূর্ণ উন্নয়নের কাজে সঠিক ভাবে ব্যবহৃত হয় তার উপর আজকের বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।

বিধায়কের প্রতিনিধি চিন্ময়বাবু বলেন, ব্লকে নতুন করে বেশ কিছু পুকুর খনন করা হবে। এছাড়াও পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একাধিক পুকুর সংস্কারের কাজও করা হবে। ভূগর্ভের জলস্তর পুষ্ট রাখার জন্য নিবিড়ভাবে এইসব পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হবে বলে তিনি জানান।ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সালানপুর ব্লকে এই ধরনের উন্নয়নমূলক বৈঠক বা পঞ্চায়েত সমিতির জেনারেল বডি মিটিং এই প্রথম অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম বিডিও সৌরভ কুমার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৈলাশপতি মণ্ডল, সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র সহ ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতের প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সকল সদস্য এবং অন্যান্যরা।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *