Thursday, September 3, 2026
Latest:

Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Thursday, September 3, 2026
Latest:
Bengal Mirror
ASANSOL

শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও সাফল্যের স্বীকৃতি দেশ জুড়ে পুরস্কৃত ৫৯ এনআইইপিএর জাতীয় সম্মান পেলেন পশ্চিমবঙ্গের ১০ আধিকারিক

*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করল পশ্চিমবঙ্গ। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নির্বাচিত মোট ৫৯ জন পুরস্কারপ্রাপকের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১০ জন শিক্ষা প্রশাসক বা আধিকারিক তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও ভালো কাজের জন্য জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনআইইপিএ), নয়াদিল্লি-র উদ্যোগে ‘ ইনোভেশন এন্ড গুড প্র্যাকটিশ ইন এডুকেশনাল এ্যাডমিনিস্ট্রেশান (এআইইএ)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৩–২৪ এবং ২০২৪–২৫ সালের জন্য এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পুরস্কারপ্রাপকদের মধ্যে ঋতপথিক ঘোষ, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সিপিসি, পশ্চিম বর্ধমান। তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাঁর উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেছেন। তাঁর উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ‘মনের কথা বাক্স’। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের মনের কথা, সমস্যা, আশঙ্কা বা ব্যক্তিগত বিষয় নির্ভয়ে জানাতে পারে। বিশেষত বাল্যবিবাহের সম্ভাবনা বা সংশ্লিষ্ট কোনও সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে এই উদ্যোগ সহায়ক হয়েছে।

একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যজন হলেন সুধাংশু শেখর চক্রবর্তী, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সিপিসি, পশ্চিম বর্ধমান। তিনি বিদ্যালয়কে ‘প্লাস্টিকমুক্ত বিদ্যালয়’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তাঁর উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যালয় গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।এছাড়াও রয়েছেন গৌরব চক্রবর্তী, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, হুগলি। বলাগড় এলাকার শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের জন্য এই স্বীকৃতি লাভ করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপকরা হলেন অরিন্দম দত্ত, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সিপিসি, মুর্শিদাবাদ, সুজয় বসু, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক, পুরুলিয়া ড. প্রলোয়েন্দু ভৌমিক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, পূর্ব বর্ধমান, ভরত ঘোষ, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, মালদহ, সংঘমিত্রা দাস, জেলা শিক্ষা আধিকারিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ড. এষা ঘোষ, জেলা শিক্ষা আধিকারিক, মুর্শিদাবাদ এবং ড. পৌষালী চক্রবর্তী, জেলা শিক্ষা আধিকারিক, পূর্ব বর্ধমান।

এনআইইপিএর এই স্বীকৃতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে উদ্ভাবনী, কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য উদ্যোগগুলিকে সম্মান জানানো হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে সমকালীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।দেশের মোট ৫৯ জন পুরস্কারপ্রাপকের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১০ জনের এই স্বীকৃতি রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের জন্য এক গর্বের বিষয়।

তাঁদের উদ্যোগের বৈচিত্র্য শিক্ষা প্রশাসনে উদ্ভাবনী চিন্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।এই জাতীয় স্বীকৃতি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রশাসকদের আরও বেশি উদ্ভাবনী, টেকসই ও সমাজমুখী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *