জামুড়িয়ায় চাঞ্চল্য স্ত্রীকে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী, পারিবারিক অশান্তি না অন্য কিছু, তদন্তে পুলিশ
*বেঙ্গল মিরর, জামুড়িয়া ও আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* স্ত্রীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলো স্বামী। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের জামুড়িয়া থানার বালানপুর বাউরিপাড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে দরজা ভেঙে স্বামী জয়ন্ত বাউরির (৩০) ঝুলন্ত দেহ ও স্ত্রী সোনামণি বাউরির (২৮) নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সময় ঘরের ভেতর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল তাঁদের দশ বছরের ছেলে। ঘটনার পেছনে পারিবারিক অশান্তি না কি অন্য কিছু রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছে জামুড়িয়া থানার পুলিশ। শুক্রবার সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালে দম্পতির মৃতদেহর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।














পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ জামুড়িয়া থানার বালানপুরের জয়ন্ত বাউরির কয়েকজন বন্ধু মোবাইলে মেসেজ পান। সেই মেসেজে লেখা ছিল, তাঁর গচ্ছিত টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি যেন ছেলের নামে করে দেওয়া হয়। ছেলের ভবিষ্যৎ দেখার অনুরোধও করেন তিনি। এমন মেসেজ পেয়ে সন্দেহ হয় বন্ধুদের। কালবিলম্ব না করে তাঁরা সোজা জয়ন্তর বাড়িতে পৌঁছান। বাড়ির ভেতরের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান সবাই। বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জয়ন্তর ঘরে উঁকি দিতেই চমকে ওঠেন তারা। বাইরে থেকে দেখা যায়, জয়ন্তর ঝুলন্ত দেহ। পাশেই মেঝেতে পড়ে রয়েছে স্ত্রী সোনামণির নিথর দেহ।

অথচ খাটে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তাঁদের দশ বছরের ছেলে। সে গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বন্ধুরাই সঙ্গে সঙ্গে জামুড়িয়া থানায় খবর দেন। সেই মতো পুলিশ এসে দুটি দেহ উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর ৩০-এর জয়ন্ত বাউরি প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিয়ে করেন সাতগ্রাম এলাকার বছর ২৮-এর সোনামণি বাউরীকে। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত বলে দাবি প্রতিবেশীদের।
বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে নিজেদের ঘরে যান দুজন। তারপর তাদের মধ্যে কি হয়েছিল, তা কেউ বলতে পারেননি। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, কোন কিছু সন্দেহ ও পারিবারিক অশান্তির জেরে জয়ন্ত স্ত্রী সোনামণিকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে খুন করার পরে নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।জামুড়িয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও জয়ন্তর মোবাইলের মেসেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রয়োজন হলে জয়ন্তর বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঠিক কি কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো, তা স্পষ্ট নয় পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দাদের কাছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে এটা খুন করে আত্মহত্যার ঘটনা। পরিবারের তরফে কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। দুটি আলাদা করে মামলা করা হয়েছে। এদিকে, মা-বাবা হারানো দশ বছরের শিশু আপাততঃ আত্মীয়দের কাছে রয়েছে।


