ASANSOL

দুই এমভিআই গ্রেফতার, রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পরেও বদলায়নি ছবি রামপুর চেকপোস্টের রমরমিয়ে চলছে দালাল রাজ! ডান্ডা ট্যাক্সের নামে টাকা নেওয়ার দাবি

*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* ট্রাক আটকে বেআইনিভাবে ঘুষ চাওয়ার অপরাধে দুই মোটর ভেহিকেলস্ ইন্সপেক্টরকে (এমভিআই) গত ২৩ জুলাই সাসপেন্ড করা হয়। তাদেরকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করার পরে, সোমবার আসানসোল আদালতে পেশ করে তিনদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। আর রাজ্য সরকারও দুর্নীতি ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু, এতোসব কিছুর মাঝে বাস্তব চিত্র যে একেবারেই আলাদা, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার রামপুরে বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে এমভিআই চেকপোস্টে।

কঠোর পদক্ষেপ ও তদন্তের মাঝেই সেখানে রমরমিয়ে চলছে দালাল চক্র।সোমবার রাজস্থানের বাসিন্দা গণেশ বলে এক ট্রেলার চালক বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, রামপুর এমভিআই চেকপোস্টে ‘এন্ট্রি ফি’-র নামে অনলাইনের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে গত ২৪ জুলাই নেওয়া হয়েছে ২১০০ টাকা। সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ঐ টাকা জমা করেছি। টাকা লেনদেনের পর ট্রেলার চালক সুশান্তবাবুকে ফোন করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।সামনে আসা ফোনালাপের অডিও বার্তা অনুযায়ী (যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি), ট্রেলার চালক যখন প্রশ্ন করেন যে রাজ্য সরকার তো সব বেআইনি আদায় বন্ধ করে দিয়েছে, তখন অভিযুক্ত সুশান্ত মণ্ডল সাফ জানান— “সব চালু রয়েছে।

ডান্ডা ট্যাক্স, এন্ট্রি ফি, সবই দিতে হবে।” নিজেকে এমভিআই কর্মী হিসেবে দাবি করে সুশান্ত বাবু আরো বলেন, এমভিআই আধিকারিকদেরও খরচা রয়েছে। তাই টাকা দিতেই হবে। আর যে আধিকারিকরা সাসপেন্ড হয়েছেন, তাঁদের চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। দু’দিন পরেই সব আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই এলাকা জুড়ে তীব্র শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে।

একদিকে যখন পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে এবং দুই আধিকারিক শ্রীঘরে, তখন কিভাবে রামপুর চেকপোস্টে প্রকাশ্যে এমন দালাল রাজ চলতে পারে—তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। লাগাতার এমন তোলাবাজি ও দালাল চক্রের সক্রিয়তায় রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা গাড়ি চালকেরা। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলা এই অবৈধ কারবার বন্ধে শেষ পর্যন্ত কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন গাড়ি চাললকেরা।ট্রেলার চালকের এই দাবি নিয়ে মোটর ভেহিক্যালস দপ্তরের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *