আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শুটার অভিনব সাউকে সামনে রেখে পশ্চিম বর্ধমানে শুরু জনগণনা ট্যাবলোতে প্রচার
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিমবঙ্গে শনিবার থেকে জনগণনা বা আদমশুমারি শুরু হল। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এদিন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।এদিন সকালে এক অনুষ্ঠানে আসানসোলের কল্যানপুরে পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক বা ডিএম কার্যালয়ে জেলাশাসক বা ডিএম এস পোন্নাবলম উপস্থিতিতে এই জনগণনার কাজের সূচনা হয়। এই জনগণনাকে সামনে রেখে এদিন জেলাশাসক কার্যালয়ে একটি ট্যাবলোর যাত্রা শুরু করা হয়।














যা আদমশুমারি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবে। জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, আসানসোলের বাসিন্দা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন শুটার অভিনব সাউ , বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায় এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউড়ি সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্যাবলোর যাত্রা শুরু করেন। এর আগে, জেলাশাসক আন্তর্জাতিক শুটিং প্রতিযোগিতায় অভিনবের অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্য তাকে সম্মানিত করেন।
জেলাশাসক বলেন , অভিনব যেভাবে আসানসোল এবং বিশ্বজুড়ে সমগ্র দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে তা প্রশংসার ঊর্ধ্বে। এই অনুষ্ঠানে অভিনবের বাবা-মাও উপস্থিত ছিলেন। এদিন কেক কেটে আদমশুমারির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পরে জেলাশাসক আদমশুমারি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই কাজে থাকা গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। মানুষ নিজেরাই এই সমস্ত তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে পারবেন। তিনি এর প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য দেন।
তিনি বলেন , পোর্টালে নিজেরাই তথ্য আপলোড করার পর একটি ১১-সংখ্যার আইডি দেওয়া হবে। গণনাকারীরা যখন আদমশুমারি পরিচালনার জন্য বাড়ি বাড়ি যাবেন, তখন পোর্টালে নিজেদের তথ্য আপলোড করা ব্যক্তিরা সেই আইডিটি গণনাকারীকে দেবেন। যার মাধ্যমে গণনাকারী সরকারি পোর্টাল থেকে সেই ব্যক্তির সমস্ত তথ্য পেয়ে যাবেন। জেলাশাসক অভিনব সাউ এবং অরিজিৎ রায়কে এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেন।
তিনি আরো বলেন, এটি একটি অত্যন্ত সহজ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে মানুষ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলের মানুষ, নিজেরাই আদমশুমারি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবদান রাখতে পারেন। এদিন পরে রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ডঃ অজয় পোদ্দার জেলাশাসক কার্যালয়ে এসে পুরো কার্যক্রমটি খতিয়ে দেখেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডাঃ পোদ্দার বলেন , পশ্চিমবঙ্গে শেষ আদমশুমারি হয়েছিল বামফ্রন্ট আমলে।
তারপর থেকে আর কোনো আদমশুমারি হয়নি। তিনি আরও বলেন , সরকারি প্রকল্পগুলি যাতে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্নভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার জন্য আদমশুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রকল্প বিশেষভাবে দরিদ্রদের জন্য তৈরি করা হয়, কিন্তু সঠিক আদমশুমারির তথ্যের অভাবে এই প্রকল্পগুলি যথাযথ সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায় না। এর ফলে প্রকল্পগুলি ব্যর্থ হয়।
তবে, এই আদমশুমারিতে আর এমনটা হবে না। তিনি আরও বলেন, আগে দরিদ্ররা সরকারি প্রকল্পের যথাযথ সুবিধা পেত না, কিন্তু এখন থেকে আর এমনটা হবে না। তিনি আরও বলেন যে, এই আদমশুমারি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে। তিনি বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে যখন জাতিগত আদমশুমারি হবে, তখন যেন তারা তাদের জাতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করেন। যাতে সকল জাতির মানুষ সরকারের জাতিভিত্তিক প্রকল্পগুলি থেকে সমানভাবে উপকৃত হতে পারেন।

