বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে ক্ষোভ সহকর্মীর মৃত্যুতে বিচারের দাবি, বিভিন্ন বিডিও অফিসে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের
*বেঙ্গল মিরর, সার্থক দে, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির অসম্মানজনক মন্তব্যের কারণে মৃত্যু হয়েছে আশা কর্মী রুম্পা মন্ডলের। এমন অভিযোগকে সামনে রেখে সঠিক বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানীগঞ্জ, জামুড়িয়া, অন্ডাল পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের আশা কর্মীরা নিজের ব্লকের বিডিও অফিসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাদের মতে, একজনকে সম্মান করতেও শিক্ষার প্রয়োজন হয়। বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আশা কর্মীরা।পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের আশা কর্মীরা বলেন, আমরা সরকারের হয়ে কাজ করি। বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা দেওয়া আমাদের কাজ।














বিষয়টা এখন আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম ফিলআপের জন্য কেওয়াইসির যাচাইয়ের সময়। আশা কর্মীদের আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম ফিলাপ করা নিয়ে বলা হচ্ছে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কথা। আশা কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিষেবা দিতে সকলের বাড়িতেই যায়। তারা বলেন, এতেও আমাদের অসুবিধা ছিল না। যদি আমাদের সময় দেওয়া হতো। প্রতিদিন ১০০ টারও বেশি ফর্ম ফিলাপ করে জমা করার টার্গেট করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বারে বারে বলেছে যত তাড়াতাড়ি কাজ টা করতে হবে।
সেটা যত তাড়াতাড়ি করা যায় সেই দিকে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সেগুলো কি কেউ দেখতে এসেছে ? বাড়ি বাড়ি যাওয়া আমাদের সমস্যা নয়। সমস্যাটা সময়ের। আমাদের এই কাজটা ১ মাসও হয়নি । সবে মাত্র শুরু করেছিলাম। এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে কাজটা প্রায় শেষের দিকে। তা কি করে সম্ভব হলো?? যে কাজ করতে ১ বছর লাগতো।কেওয়াইসির ক্ষেত্রেও একই কথা বলা হয়েছে।
প্রতিদিন টার্গেট কমপক্ষে ৫০ টা করে। যার জন্য প্রয়োজন, সব লোককে বাড়িতে একসঙ্গে থাকতে হবে। নেটওয়ার্ক ভালো থাকতে হবে। নাহলে একটা কেওয়াইসি করতে ঘণ্টার পর ঘন্টা চলে যায়। তারা আরো বলেন, কেওয়াইসি করার জন্য যে আমাদের কাছে মোবাইল রয়েছে, সেই ফোনে কাজ করা কঠিন। এমন সময়ে মনোবল ভেঙে দিতে, এইভাবে জনসমক্ষে অপমান করা যায়?
সব আশা কর্মীদের এভাবে বিতর্কের প্রসঙ্গ বানিয়ে দেওয়া যায়? তারা বলেন, কাজ ছেড়ে দিন বলা সহজ, কিন্তু এতদিন যারা দাঁতে দাঁত চেপে কাজ করে গেছেন কম পয়সায়, তাদের জন্য কিছু বলতে হতো। আর চুরির কথা বলতে হলে সব দপ্তরেই তা আছে। সেগুলোর বিচার আগে করুন। সব কিছুরই একটা নিয়ম আছে। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সব আশাকর্মীদের অপমান করার অধিকার কারোর নেই।

