Bengal Mirror

Think Positive

Bengal Mirror
Bengal Mirror
ASANSOL

প্রধানের স্বামীকে কলার ধরে পঞ্চায়েত থেকে বার করলেন মহিলারা! দুর্নীতি ও ‘প্রক্সি’দেওয়ার অভিযোগ, রূপনারায়ণপুরে উত্তেজনা

*বেঙ্গল মিরর, রুপনারায়নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূল দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও দপ্তর চালাচ্ছেন তাঁর স্বামী! একই সঙ্গে ব্যাপক স্বজনপোষণ ও জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠলো পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। এইসব অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার রুপনারায়নপুর পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বিক্ষুব্ধ মহিলারা। ঘটনা চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীকে কলার ধরে টানতে টানতে কার্যালয় থেকে বের করে দেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ও বিক্ষুব্ধ মহিলাদের অভিযোগ, রূপনারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত প্রধান হলেন অপর্ণা দাস। কিন্তু বাস্তবে পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনা করেন তাঁর স্বামী বিপন দাস।বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রধান পদে অপর্ণা দাস থাকলেও নেপথ্যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন তাঁর স্বামী।তৃণমূল কংগ্রেসের আমল থেকেই পঞ্চায়েতের নানা উন্নয়নমূলক কাজে একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বিপুল রায়। অভিযোগ, সরকারি খাস জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তর ও ব্যবহারের জন্য কোনোরূপ তদন্ত ছাড়াই পঞ্চায়েত থেকে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষুব্ধ মহিলাদের সাফ বক্তব্য, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে একাধিক দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের তথ্য সামনে আসবে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চায়েত কার্যালয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাতাহাতির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্দোলনকারী মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ আধিকারিকরা।পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়ে জানানো হয় বুধবার থেকে পঞ্চায়েত চত্বর বা কার্যালয়ে প্রধানের স্বামীকে আর দেখা যাবে না।

সরকারি কাজে তাঁর হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে মহিলাদের তরফে পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়।পুলিশের এই মৌখিক আশ্বাসের পর অবশেষে ক্ষুব্ধ মহিলারা বিক্ষোভ তুলে নেন এবং পঞ্চায়েত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপনারায়ণপুর পঞ্চায়েত এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।তবে, মহিলাদের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন পঞ্চায়েত প্রধান।

তিনি বলেন, স্বামী আমার সঙ্গে পঞ্চায়েত অফিসে আসেন এটা ঠিক। কিন্তু তিনি অফিসের বাইরে থাকেন। আমার কোন কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। তার দাবি, এদিন আমার স্বামী অফিসের বাইরে ছিলেন। মহিলারা তাকে জোর করে অফিসের ভেতরে নিয়ে আসেন। আবার ভেতর থেকে বাইরে কলার ধরে নিয়ে যান। তার কথায়, পুরোটাই উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

Social Share or Summarize with AI

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *