ASANSOLRANIGANJ-JAMURIA

রানিগঞ্জে উত্তেজনা পড়ানো ও ঝাড়ফুঁকের নামে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ধৃত প্রৌঢ়, কঠোর শাস্তির দাবিতে ফাঁড়িতে বিক্ষোভ

*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, চরণ মুখার্জী ও রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* এক মহিলার শারীরিক অসুস্থতার কারণে পাড়ার এক প্রৌঢ়কে ঝাড়ফুঁক করতে ডাকে এক মহিলার পরিবার। সেই সময় বছর ৫৩ র পরেশ ভট্টাচার্য নামের ঐ প্রৌঢ় অসুস্থ মহিলাকে বিভিন্ন ভাবে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিয়ে ঝাড়ফুক করতে থাকেন। যা দেখে ঐ মহিলা ও তার পরিবারের সদস্যরা রেগে যান। এরপর তারা মারমুখী হয়ে পড়েন। এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে আছে। সেই সময় জানা যায়, গৃহ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করা এই ব্যক্তি নাবালিকাদের শারীরিকভাবে দীর্ঘদিন ধরেই নিগ্রহ করে আসছেন। পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রী তার শারীরিক ভাবে নিগ্রহের কথা নিজের বাবা-মা ও পরিজনদের জানালে তারা রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রানিগঞ্জ থানার বল্লভপুর আউটপোষ্ট বা ফাঁড়ির পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। এই ঘটনায় বছর ১১র পঞ্চম শ্রেণীর নাবালিকা ছাত্রীর বাবা ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঐ নাবালিকার পরিবার-পরিজনদের দাবি, বেশ কিছুদিন হলো পেশায় গৃহশিক্ষক পরেশ ভট্টাচার্যকে পড়ানোর জন্য তারা পড়ানোর জন্য রেখেছে। পড়ানোর সময় বাড়ির সকল সদস্যদের বাইরে চলে যেতে বলতেন তিনি। আর সেই সময় নাবালিকা ছাত্রী শরীরের বিভিন্ন অংশে এমনকি গোপনাঙ্গে হাত দিতো।

ঐ নাবালিকা ছাত্রী এমন কথা তাদেরকে বলেছে দাবি পরিবারের সদস্যদের। এই ঝাড় ফুকের সময় যে রূপ ভাবে তার শরীরে হাত দেওয়ার বিষয় নিয়ে কথাবার্তা উঠতে থাকে সেই সকল বিষয় শুনে ওই ছাত্রী তার সঙ্গে নিত্যদিন নানান ভাবে যৌন নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেই দাবি করে ওই ছাত্রী তার বক্তব্যে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় রানিগঞ্জ থানার বল্লভপুর আউটপোস্ট চত্বরে।

পুলিশ ঐ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি নাবালিকা ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা করবে বলে জানা গেছে। নাবালিকার পরিবারের সদস্য ও এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ধৃত ঐ ব্যক্তিকে আদালত যাতে কঠিনতম শাস্তি দেয় তার ব্যবস্থা করুক পুলিশ। যাতে এ ধরনের অন্যায় আর অন্য কেউ না করতে পারে। যাতে সবাই তা দেখে শিক্ষা নেয়।পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে পরেশ ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *