দুর্গাপুরে দুই বর্ধমান নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক আবাস যোজনায় সমীক্ষার সময় বাড়ল আরো ১৫ দিন, পঞ্চায়েতের কাজে গতি আনতে কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পঞ্চায়েত স্তরে আবাস যোজনা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, শৌচালয় নির্মাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দুর্গাপুরের সৃজনী হলে আয়োজিত এই বৈঠকে দুই জেলার জেলাশাসক, বিডিও, পঞ্চায়েত সচিব সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, বেশ কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম রয়েছে। প্রবল বৃষ্টি এবং একইসঙ্গে একাধিক প্রকল্পের কাজ চলায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।














পঞ্চায়েত দফতরে ১১ হাজারেরও বেশি কর্মী কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।আবাস যোজনার সার্ভে বা সমীক্ষার সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে বলে এদিন জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী। আগে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সার্ভের সময়সীমা ছিল। কেন্দ্র জানিয়েছে পুরো আগষ্ট মাস ধরে সমীক্ষা হবে। মন্ত্রী বলেন, সময় বাড়ায় এবার প্রত্যেকটি বাড়িতে পৌঁছে সার্ভে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যেসব বাড়িতে এখনও সার্ভে হয়নি, তাঁদের নাম ও ঠিকানা জানালে সেখানে কর্মী পাঠিয়ে সার্ভে করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিনের বৈঠকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা হয়। মন্ত্রীর দাবি, প্রায় ৩০ লক্ষ বাড়ির জন্য ইতিমধ্যেই অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ২০ লক্ষ ২০ হাজার সুবিধাভোগীর কাছে টাকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার নাম অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অযোগ্যদের টাকা ফেরতের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার জন টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান তিনি।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। নতুন জব কার্ড ইস্যুর পাশাপাশি পুরনো জব কার্ডের তথ্য যাচাই ও ম্যাচিং চলছে। আবাস যোজনার তালিকার সঙ্গেও জব কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
দুর্নীতি রুখতে পঞ্চায়েতগুলিতে বিশেষ অডিটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান দিলীপ ঘোষ। প্রায় ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে এই বিশেষ অডিট চলছে। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগে যে কাজগুলি আগে বন্ধ ছিল, সেগুলি ফের চালু করা হয়েছে। তবে কোথাও অনিয়ম ধরা পড়লে কাউকে কোনরকম রেয়াত করা হবে না।
পঞ্চায়েতের প্রধান বা অন্য পদাধিকারীর অনুপস্থিতির কারণে যাতে সরকারি কাজ আটকে না যায়, সেজন্য আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর কথায়, কোনও প্রধান আসবেন কি না, সেটি তাঁর বিষয়। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতির জন্য উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকবে না।আবাসের বাড়ি তৈরিতে বালি নিয়ে কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠলে প্রশাসনকে জানানোর আবেদনও করেন মন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে ডিএম ও এসপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একইসঙ্গে আবাসের বাড়ি তৈরিতে শ্রমিকের মজুরি বাবদ ৯০ দিনের কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।সব মিলিয়ে, অযোগ্য সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশেষ অডিট এবং প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি আবাস ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপরই এদিনের বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।






