রানিগঞ্জে উত্তেজনা স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন রাতে বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, জখম ১৪
*বেঙ্গল মিরর, রানিগঞ্জ, রাজা বন্দোপাধ্যায় ও চরণ মুখার্জিঃ* স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন শুক্রবার রাতে বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আসানসোলের রানিগঞ্জ স্টেশন চত্বর এলাকায়। এই ঘটনায় দুদল মিলিয়ে ১৪ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ৬ জনের আঘাত গুরুতর। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গেছে, রানিগঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির একটি দলীয় কার্যালয়ে রয়েছে। শুক্রবার রাতে সেই কার্যালয়ের সামনে বিজেপির ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ২ সদস্যর মধ্যে ফোনে কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে বচসা হয়। পরে সেই বচসা থেকে দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।














অভিযোগ, একপক্ষ অন্যপক্ষের উপরে হকি স্টিক, গাড়ির চেন, পাঞ্জা, লাঠি ও স্ক্র ড্রাইভার নিয়ে হামলা চালায়। এই ঘটনা চলার সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শুভম রাউত ও তার সঙ্গীরা বচসায় জড়ান বিজেপির বাদশা চট্টোপাধ্যায় ও অন্যদের সঙ্গে। অভিযোগ রাজু গড়াই নামের এক ব্যক্তি সঙ্গে গালমন্দ দেওয়া ও ফোনে হুমকি দেওয়ার বিষয়কে নিয়ে বাদানুবাদের সৃষ্টি। এই বিষয়কে নিয়েই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা স্টেশন চত্বরে বিজেপির কার্যালয়ের সামনে যায়।
তখন তারা প্রথমে কথা কাটাকাটিতে জড়ান। পরে হাতাহাতি শুরু হয় তাদের মধ্যে। গোটা বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের আকার নেয়। এই ঘটনার বিষয় জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানিগঞ্জ থানার পুলিশ। রাত যত গভীর হতে থাকে উত্তেজনার পারদ ততোই বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কমব্যাট ফোর্স ও রেপিড এ্যাকশন ফোর্স নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
এই ঘটনায় হামলার অভিযোগে রাতে রাস্তা অবরোধ করেও চলে বিক্ষোভ। যদিও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সেই অবরোধ কিছুক্ষণের মধ্যে তুলে দেয়। এরপর পুলিশ দুই পক্ষকে ঐ এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে রাতভর এলাকায় টহল দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে পুলিশ। জানা গেছে এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
এই ঘটনাকে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। দু’পক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে, পুলিশ জানায়, গোটা ঘটনার পেছনে ঠিক কি কারণ আছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।






