বরাকরে প্রথম ৩০১ ‘বাল কাঁবরিয়া যাত্রা’ হাঁটলেন মন্ত্রী ডাঃ অজয় পোদ্দার
*বেঙ্গল মিরর, বরাকর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো বরাকরে আয়োজন করা হল ‘বাল কাঁবরিয়া যাত্রা’। বরাকরের যুবকদের উদ্যোগে রবিবার শ্রাবণ মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ যাত্রায় অংশ নেয় ২ থেকে ৮ বছর বয়সী মোট ৩০১ জন খুদে কাঁবরিয়া।বরাকর ওল্ড জিটি রোড সংলগ্ন ডায়মন্ড মাঠ ঘাট থেকে নদীর জল সংগ্রহ করে ছোট ছোট শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা ‘বোল বাম’ ধ্বনি দিতে দিতে পায়ে হেঁটে বৈগুনিয়া হয়ে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছায়। সেখানে ভক্তিভরে বাবা মহাদেবের মাথায় জল অর্পণ করে তারা।খুদে কাঁবরিয়াদের উৎসাহ বাড়াতে রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী তথা কুলটির বিধায়ক ডাঃ অজয় পোদ্দার নদীর ঘাটে পৌঁছান।














এরপর তিনি নেহাত দর্শক হয়ে না থেকে খুদে কাঁবরিয়াদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে মন্দির পর্যন্ত হাঁটেন এবং তাঁদের সঙ্গে মহাদেবের মাথায় জল অর্পণ করেন।এই প্রসঙ্গে,মন্ত্রী অজয় পোদ্দার বলেন, হিন্দু ধর্মের পরম্পরায় ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ভগবান রাম, কৃষ্ণ, শিব-সহ বিভিন্ন দেবদেবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আয়োজক প্রধান কেশব পোদ্দার বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের একটি বড় অংশ ভিডিও গেম, ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট।
তাই তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি। তাঁদের আশা, আজকের এই খুদে কাঁবরিয়ারাই ভবিষ্যতে বড় হয়ে সুলতানগঞ্জ থেকে দেওঘর-সহ বিভিন্ন তীর্থস্থানে গিয়ে জল অর্পণের পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।আয়োজকদের দাবি, কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা সমাজসেবী সংগঠনের ব্যানার ছাড়াই বরাকরের যুবসমাজের উদ্যোগে প্রথম বছরেই ৩০১ জন শিশু এই যাত্রায় অংশ নিয়েছে।
আগামী বছর এই সংখ্যা প্রায় ১১০০ এবং তার পরের বছর ২১০০-তে পৌঁছতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।ভবিষ্যতে এই ধরনের ‘বাল কাঁবরিয়া যাত্রা’ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। শিশুদের ধর্মীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ভগবান মহাদেব ও মহাকালের মাহাত্ম্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।






