রানীগঞ্জে ৪৫০ কোটির বাইপাসের জন্য বুলডোজার, উচ্ছেদ ঘিরে ক্ষোভ
বেঙ্গল মিরর, চরণ মুখার্জী, রানীগঞ্জ: ( Raniganj News ) শহরের যানজট এড়াতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে সাহেবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত বাইপাস নির্মাণের কাজ চলছে জোরকদমে। প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই রাস্তা প্রশস্ত করতেই চলছে জমি অধিগ্রহণ। আর সেই অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করেই রবিবার দুপুরে রানীগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় বুলডোজার অ্যাকশন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়াল।প্রশাসনের দাবি, আগেই নোটিশ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও জমি না ছাড়ায় বাধ্য হয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রবিবার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে বাইপাসের ধারের একটি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।














কেন এই উচ্ছেদ অভিযান?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রেললাইন ও বাইপাস সম্প্রসারণের জন্য অনেক আগেই এই এলাকার বিস্তীর্ণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিকাংশ মালিক ক্ষতিপূরণ নিয়ে সরে গেলেও কয়েকজন এখনও জমি ছাড়েননি। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরেও জমি খালি না করায় এই অভিযান।এই অভিযানে উপস্থিত ছিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী, উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এবং রেল কর্তৃপক্ষের তরফে সেন্ট্রাল ফোর্স।
ক্ষোভে স্থানীয়রা, কী বলছেন বাসিন্দারা?
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অন্যরকম। তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় সড়ক নিগম (NHAI) আগেই নির্দিষ্টভাবে জরিপ করে একবার জমি ও বাড়ির অংশ ভেঙেছিল। এখন আবার সেই অংশের থেকেও বেশি জায়গা অধিগ্রহণ করার জন্য বাড়ি ভাঙতে আসায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।
এক বাসিন্দার কথায়, “যতটা প্রয়োজন ততটা একবারে চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণ দিক। বারবার এসে ভাঙাভাঙি চলবে না।” অনেকের দাবি, তাঁদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি।
,উন্নয়ন বনাম ক্ষোভ:
প্রশাসনের মতে, শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে, যানজট কমাতে এবং পণ্য পরিবহন দ্রুত করতে এই বাইপাস ও রেল সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। তাই উন্নয়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। তবে বারবার জরিপ ও ভাঙার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


