বেহাল রাস্তায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা! সারাইয়ের দাবিতে বার্নপুরে অবরোধ, সেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীর, আশ্বাস মন্ত্রীর
*বেঙ্গল মিরর, বার্নপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বেহাল রাস্তা, জমে থাকা জল ও বড় বড় গর্ত। তার জেরে প্রতিদিনই ঘটছে পথ দুর্ঘটনা। কখনও টোটো উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী কখনও মোটরবাইক ও সাইকেল নিয়ে পড়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষেরা। রাস্তার এই দুরবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বার্নপুরের সাঁতা মোড়ে পথ অবরোধ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও রাস্তা সংস্কারের কোনও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাঁতা মোড় সংলগ্ন রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত খারাপ।














রাস্তার বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলেই সেই গর্তগুলিতে জল জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যার ফলে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের।স্থানীয় বাসিন্দা রামচন্দ্র যাদবের অভিযোগ, “এই রাস্তায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। রবিবার একটি মহিলা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

এদিন সকালে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে একজন মহিলা পড়ে যান। আমরা বারবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও হেলদোল নেই।স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, রাস্তার উপর জমে থাকা জল-কাদা এবং বড় বড় গর্তের কারণে টোটো, সাইকেল ও বাইক চালকদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পথচারীরাও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সকলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন।এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, রাস্তা সংস্কারের জন্য আগেও সেল বা স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়ার কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানানো হয়েছিল। একবার রাস্তার গর্তে রাবিশ ফেলে সাময়িকভাবে মেরামতির চেষ্টা হলেও বৃষ্টির জলে কয়েকদিনের মধ্যেই তা ধুয়ে যায়।
ফলে ফের আগের অবস্থায় ফিরে আসে রাস্তা।এক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা চাই রাস্তার একবার প্রপারভাবে স্থায়ী সংস্কার হোক। শুধু বোল্ডার বা রাবিশ ফেলে দায় সারা হলে হবে না। এমনভাবে রাস্তা তৈরি করতে হবে যাতে দশ/পনেরো দিন পর আবার একই অবস্থা না হয়।স্থানীয়দের বক্তব্য, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অ্যাম্বুল্যান্সে রোগী নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুল পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ বাসিন্দারাও নিয়মিত এই রাস্তা ব্যবহার করেন।
রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।রাস্তার দায়িত্ব নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, আসানসোল পুরনিগমকে বিষয়টি জানানো হলে বলা হয়, এই রাস্তা তাদের আওতাধীন নয়। সেলের অধীনে। ফলে সেলের কাছেই বারবার আবেদন জানাতে হচ্ছে।
কিন্তু অভিযোগ, একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি।ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই এদিন অবরোধ করতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাস্তা মেরামতির বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং দায়সারা কাজ নয়। স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কার করতে হবে।স্থানীয়দের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। তাঁদের প্রশ্ন,প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটার পরেও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। কবে তাদের টনক নড়বে?রাস্তা অবরোধ বিক্ষোভের খবর পেয়ে এলাকায় আসে হিরাপুর থানার পুলিশ।
তারা এলাকার বাসিন্দা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়। উল্লেখ্য, এই সাঁতা এলাকা আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার। বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ঐ রাস্তাটি সেলের। রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য এদিন এলাকার বাসিন্দারা অবরোধ বিক্ষোভ করেছেন। আমি ইস্কো কারখানার ডিআইসিকে বলেছি, এই রাস্তার দায়িত্ব সেলের। তাদেরকে তা করতে হবে। এর পাশাপাশি আমি গোটা বিষয়টি দেখার জন্য পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক ও আসানসোল পুরনিগমের কমিশনারকেও বলেছি।


