অস্ত্রোপচার ছাড়াই ধারালো লোহার পেরেক বার করে নজির চিকিৎসকদের দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি হাসপাতালে ৪ বছরের শিশুর প্রাণ রক্ষা
*বেঙ্গল মিরর, দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* দুর্গাপুরের বেসরকারি আইকিউ সিটি হাসপাতাল অসাবধানে একটি ধারালো লোহার পেরেক গিলে ফেলা চার বছর বয়সী এক শিশুর সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। এই চিকিৎসায় বড় কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি।জানা গেছে, শিশুটি গত ২৮ আগস্ট সকাল ৮টার সময় অসাবধানবশত একটি ধারালো লোহার পেরেক গিলে ফেলে। এর পরে তার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সে রক্ত বমি করতে থাকে। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।














কিন্তু জটিলতা এবং উচ্চ ঝুঁকির কারণে, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য কলকাতায় রেফার করা হয়। বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পর, পরিবারকে জানানো হয় যে অস্ত্রোপচার খুব ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।শিশুটির শারীরিক অবস্থার কারণে, তার অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল।

তাই তাকে পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্য সাতটার সময় দুর্গাপুরে আইকিউ সিটি হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডাঃ নির্মাল্য সাহা এবং তার দল শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। ধারালো পেরেকটিকে বার করা বা অপসারণের জন্য একটি জরুরি এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন।অল্প সময়ের মধ্যেই, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডাঃ নির্মাল্য সাহা, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মনীষা দে, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ সোহিনী দত্ত এবং এন্ডোস্কোপি টেকনিশিয়ান শ্রী রঞ্জিতকে নিয়ে গঠিত একটি দল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে।
উন্নত এন্ডোস্কোপিক কৌশল ব্যবহার করে, চিকিৎসক দলটি বড় ধরনের ওপেন সার্জারি এড়িয়ে এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে সফলভাবে ধারালো লোহার পেরেকটিকে বার করে। এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে পেরেকটি বার করা সময়োচিত সিদ্ধান্ত এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টা একটি সম্ভাব্য জীবন মরণের পরিস্থিতিকে নিরাপদে ও কার্যকরভাবে সামাল দিতে সাহায্য করেছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভালো আছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
সে দ্রুত সেরে উঠছে এবং মুখে খাবার খেতে পারছে। প্রক্রিয়াটির পরে কোনো বড় ধরনের জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি। আইকিউ সিটি হাসপাতালের মুখপাত্র সুদর্শনা গাঙ্গুলী সমগ্র চিকিৎসা ও সহায়ক দলকে তাদের তৎপরতা, চিকিৎসাগত দক্ষতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। যা এই ছোট্ট শিশুর চিকিৎসা নিরাপদে সম্পন্ন করা ও প্রাণ বাঁচানো নিশ্চিত করেছে।


