চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা বাঁচানো সহ একাধিক দাবি লেবার ইউনিয়নের ডাকে জিএম অফিসে ধর্না
*বেঙ্গল মিরর, চিত্তরঞ্জন, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস (সিএলডাবলু) বা রেল ইঞ্জিন কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা,আউটসোর্সিং বন্ধ এবং কর্মীদের একাধিক বকেয়া দাবি আদায়ে সরব হলো সিএলডাবলু লেবার ইউনিয়ন। কারখানা, অফিস, হাসপাতাল ও পাওয়ার হাউস বাঁচানোর ডাক দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে চিত্তরঞ্জন জি এম অফিসের সামনে এক ধর্না কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।













“চিত্তরঞ্জন বাঁচান, রেল বাঁচান, দেশ বাঁচান”, এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ধর্না কর্মসূচিতে সমস্ত স্তরের কর্মী ও স্থানীয় মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিত নজরে পড়ে।ইউনিয়নের তরফে প্রধান দাবি হলো, অফলোডিং ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সিএলডাবলু-এর কাজ বাইরে পাঠানো বন্ধ করতে হবে। স্মার্ট ইঞ্জিন কেনার নামে কারখানা রুগ্ন করার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার হুঁশিয়ারি।বর্ধিত উৎপাদনের সাথে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে কারখানায় শূন্যপদ পূরণ, বিশেষ করে ‘গ্রুপ-ডি’ পদে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করতে হবে।
কারখানার উৎপাদনে যুক্ত সকল কর্মীকে ইনসেনটিভের আওতায় আনা এবং অতিরিক্ত কাজের প্রাপ্য অর্থ অবিলম্বে পরিশোধের দাবি।অবিলম্বে ৮ম পে কমিশন কার্যকর করা এবং পেনশনভোগীদের জন্য এর সংশোধিত সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি।নতুন পেনশন প্রকল্প (এনপিএস) ও সাম্প্রতিক ইউপিএস বাতিল করে সকল কর্মীকে পুরোনো পেনশন স্কিমের (ওপিএস) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।সিএলডাবলু সহ ভারতীয় রেলে তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকির সংস্কৃতি বন্ধ করার দাবি জানান হয়েছে।
ঠিকাকর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ডানকুনির কর্মীদের জন্য ইনসেনটিভ ও প্রথম শ্রেণির শহরের সমতুল্য এইচআরএ চালু করা এবং সিএলডাবলু-তে রেলের অন্যান্য ইউনিটের মতো বাড়ি ভাড়া ভাতা চালু করার দাবি করা হয়েছে ।স্বীকৃত ইউনিয়নের সাথে আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ইউনিয়ন স্বীকৃতির নির্বাচন করা, শাখা কমিটির সভা আয়োজন এবং নিয়মিত পিএনএমের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করার দাবি জানানো হয়েছে।
সিএলডাবলু লেবার ইউনিয়নের তরফে বলা হয়েছে ,চিত্তরঞ্জন কারখানার ঐতিহ্য এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতেই এই আন্দোলন। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে পেনশনার ও সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে শামিল হয়ে নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।এদিন প্রধান বক্তা হিসেবে সুদীপ দত্ত, কমরেড আভাস রায় চৌধুরী ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

