পাণ্ডবেশ্বরে ১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব! শিল্প গড়তে উদ্যোগী জিতেন্দ্র তেওয়ারি, কর্মসংস্থানের নতুন আশায় খনি অঞ্চল
বন্ধ খনির জমিতে শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা, পাণ্ডবেশ্বর ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনক্লেভে শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান
বেঙ্গল মিরর, পাণ্ডবেশ্বর, চরণ মুখার্জী ও সার্থক কুমার দেঃ কয়লা নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে শিল্পের নতুন দিগন্তের সন্ধানে পাণ্ডবেশ্বর। বন্ধ খনির পরিত্যক্ত জমিতে শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে মঙ্গলবার ইসিএলের বাঁকোলা এরিয়ার গুলমোহর ক্লাবে অনুষ্ঠিত হল পাণ্ডবেশ্বর ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনক্লেভ। পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিল্পপতিদের কাছ থেকে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিধায়ক।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পন্নবলম এস, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার, জেলার একাধিক বিধায়ক, বিভিন্ন বণিকসভার প্রতিনিধি এবং শিল্পপতিরা।









কয়লা খনির জন্য পরিচিত পাণ্ডবেশ্বরকে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা। এই অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত জমি, জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগের সুবিধা এবং দক্ষ শ্রমিকের প্রাপ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে বন্ধ খনির পরিত্যক্ত জমিকে শিল্পের কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।কনক্লেভে লজিস্টিক হাব, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিমেন্ট, স্টিল ডাউনস্ট্রিম এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) গড়ে তোলার বিষয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এর মাধ্যমে পাণ্ডবেশ্বরের পাশাপাশি আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।




শিল্পের পরিবেশ নিয়ে পূর্ববর্তী সরকারকে নিশানা
শিল্পমন্ত্রীরঅনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শিল্পের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বাম আমলে আন্দোলনের নামে জঙ্গিপনা এবং তৃণমূল আমলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণে বহু শিল্পপতি বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ বদলাতে শুরু করেছে। শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক শিল্প নয়, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প স্থাপন অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস বলেন, শিল্পপতি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ফলে রাজ্যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যবাসী এর সুফল পাবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব, আশায় পাণ্ডবেশ্বর
পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারির উদ্যোগে আয়োজিত এই কনক্লেভে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব পাওয়া গিয়েছে বলে তাঁর দাবি। তবে কোন কোন শিল্প সংস্থা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং কবে থেকে প্রকল্পগুলির কাজ শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।দীর্ঘদিন ধরেই পাণ্ডবেশ্বরের বাসিন্দাদের দাবি ছিল, কয়লার উপর নির্ভরতা কমিয়ে এলাকায় বিকল্প শিল্প গড়ে তোলা হোক। সেই প্রেক্ষাপটে এই বিনিয়োগ সম্মেলনকে ঘিরে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।বন্ধ খনির জমিতে শিল্প গড়ে উঠলে একদিকে যেমন এলাকার অর্থনীতিতে গতি আসতে পারে, অন্যদিকে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে। তবে বিনিয়োগের প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে শিল্পমহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

