ন্যূনতম মজুরি, নিরাপত্তা সহ একাধিক দাবি সালানপুরে বেসরকারি কারখানার গেট আটকে, কাজ বন্ধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ
*.বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর থানার কল্যাণেশ্বরী এলাকার কদভিটা মহেশপুরে বেসরকারি কারখানা সিটি অ্যালয়স প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান গেটের সামনে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই বিক্ষোভের কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হয়।বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলো হলো সরকার-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রদান, কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) ও ইএসআইর সুবিধা প্রদান।ফার্নেস সহ কারখানার বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত তন্ময় টুডু, বিশাল কুমার এবং অন্যান্য শ্রমিকদের অভিযোগ, ৮ ঘণ্টা কাজের জন্য তাঁদের দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে।













তাদের দাবি, সরকারি নিয়মকানুন এবং একই মানের অন্যান্য কারখানার নিয়ম অনুযায়ী, ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩৮৬ টাকা বা তার বেশি দিতে হবে।শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, তাদের কখনও কখনও প্রয়োজনীয় ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়। এছাড়াও, কারখানা কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ২৬ কর্মদিবস চালু করতে, রবিবার নির্ধারিত ছুটি দিতে এবং ছুটির দিনের বেতন দিতে বিলম্ব করার অভিযোগ আনা হয়েছে।শ্রমিকরা কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবেরও অভিযোগ করেছেন। তারা দাবি করেছেন যে, চুল্লির মতো বিপজ্জনক এলাকায় কাজ করা সত্ত্বেও তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা কিট এবং সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। তারা পিএফ এবং ইএসআইয়ের মতো সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা না থাকারও অভিযোগ করেছেন।শ্রমিকরা গত জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। সেই দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়েছিল। তারা অভিযোগ করেছেন যে, তাদের এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ছুটি বা বিশ্রাম দেওয়া হয়নি। তারা দাবি করেন যে, চিকিৎসার সময়েও তাদের দিনে আট ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। মাসে মাত্র ৮,০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে।বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা কারখানার ফোরম্যান রবি কুমার সিং সহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে তাদের গালিগালাজ, হুমকি ও মারধরের অভিযোগও করেছেন। তাদের অভিযোগ, মজুরি বৃদ্ধি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা এদিন চারটি প্রধান দাবি পেশ করেছেন। তা হলো সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি, পিএফ-ইএসআই সুবিধা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং ফোরম্যান ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথিত দুর্ব্যবহারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ বা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। শ্রমিকরা এদিন জানিয়েছেন , তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কারখানার গেট আটকে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।তবে, শ্রমিকদের এই অভিযোগ ও দাবি নিয়ে কারখানা কতৃপক্ষের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

