তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সালানপুরে অঞ্জনী রেলের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কতৃপক্ষের আশ্বাস
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়:* তিন মাসের বকেয়া বেতন অবিলম্বে পরিশোধ, নিয়মিত বেতন প্রদান, পিএফ-ইএসআইয়ের সম্পূর্ণ সুবিধা এবং দুর্গাপুজোর আগে বোনাস দেওয়ার দাবিতে বুধবার আসানসোলের সালানপুরে দেন্দুয়ার নাকড়াঝড়িয়াশ অঞ্জনী রেল প্রাইভেট লিমিটেড কারখানার সামনে প্রায় ২৫০ জন ঠিকা শ্রমিক বিক্ষোভ দেখান। সকাল থেকেই শ্রমিকরা কারখানার গেটের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বেতন বকেয়া রয়েছে। কখনও কয়েকদিন পরে, আবার কখনও অন্য সময় বেতন দেওয়ার কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না।













এক শ্রমিক বলেন, আমরা চাই সময় মতো বেতন দেওয়া হোক। নিয়মিত বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতন কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।শ্রমিকদের আরো অভিযোগ, বেতন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়। কাজ বন্ধ রাখলে বাইরে চলে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ।

শ্রমিকদের দাবি, কারখানার মালিক অথবা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তাঁদের সামনে এসে বকেয়া বেতন প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে হবে।এদিকে, শ্রমিকদের দাবির সমর্থনে ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস) প্রতিনিধিরাও কারখানায় পৌঁছন। বিএমএস নেতা গোবিন্দ বিশ্বাস জানান, এর আগেও শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাঁরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন।
তবে সেই সময় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। বুধবার ফের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে আমরা কারখানায় আসি।গোবিন্দ বিশ্বাস আরো বলেন, শুধু বকেয়া বেতন নয়, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, সম্পূর্ণ পিএফ ও ইএসআই সুবিধা, হাসপাতাল ও অ্যাম্বুল্যান্সের মতো জরুরি পরিষেবা এবং দুর্গাপুজোর আগে বোনাসও নিশ্চিত করতে হবে।
রাজ্যের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের এই দাবিগুলি নিয়ে বিএমএসের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি কারখানায় কর্মসংস্থানও বজায় রাখতে হবে। এমন কোনও আন্দোলন করা হবে না। যার ফলে কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকদেরই কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্রমিক স্বার্থ, রাষ্ট্র স্বার্থ ও দেশের স্বার্থ, এই তিনটি বিষয়কে মাথায় রেখেই সংগঠন কাজ করবে বলে জানান গোবিন্দ বিশ্বাস।
বুধবার কারখানা কর্তৃপক্ষের কয়েকজন প্রতিনিধি বাইরে এসে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বুধবারের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকরা জানান, তাঁরা শুধু মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।
কারখানার মালিক অথবা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তাঁদের সামনে এসে বকেয়া বেতন প্রদানের নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে হবে।বকেয়া বেতন, শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রদানের দাবিতে অঞ্জনী রেল কারখানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। এখন কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী আগামী বুধবারের মধ্যে বকেয়া বেতন মেটে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে এখন এই কারখানার শ্রমিক মহল।

