নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ কাঁকসায় এক কিশোর সহ ধৃত তিন
*বেঙ্গল মিরর, কাঁকসা ও দুর্গাপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* কাউকে জানালে পরিণতি আরো খারাপ হবে। এই ভয় দেখিয়ে প্রায় এক মাস ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাটি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ালো কাঁকসা থানা এলাকায়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এক কিশোর সহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই কাঁকসা থানার পুলিশ পকসো আইনে মামলা করে তদন্তে নেমেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় এক মাস আগে ঐ নাবালিকার ওপর নারকীয় নির্যাতন চালায় তিনজম।













নির্যাতনের ঘটনাটি কাউকে জানালে মারাত্মক পরিণতি হবে বলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয় দেখানো হতো। ভয়ের চোটে ও মারাত্মক মানসিক অবসাদে ভুগে দীর্ঘ দিন মুখ খোলেনি ঐ নাবালিকা। দিন দিন তাকে বিষণ্ণ ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে দেখে চিন্তায় পড়েন পরিবারের সদস্যরা।সোমবার রাতে পরিস্থিতি মোড় নেয় অন্যদিকে। রাতে খাবার খেয়ে শুতে যাওয়ার সময় হঠাৎই কান্নায় ভেঙে পড়ে ঐ নাবালিকা।
মেয়েকে এভাবে ক্রমাগত কাঁদতে দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ভয় কাটিয়ে পুরো ঘটনা কেঁদে কেঁদে পরিবারের কাছে খুলে বলে নির্যাতিতা।ঘটনা জানতে পেরেই আর বিন্দুমাত্র দেরি করেননি পরিবারের সদস্যরা। সোজা কাঁকসা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে কাঁকসা থানার পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করে। অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাঁকসা থানার পুলিশ।ধৃতদের মধ্যে শেখ আলতাব ইরফান (২২) বোলপুরের নতুন পুকুর এলাকার বাসিন্দা এবং আমির মল্লিক (২০) কাঁকসার গৃহস্থপাড়ার বাসিন্দা। ধৃত তিনজনের মধ্যে একজনকে আসানসোলের জুভেনাইল আদালতে এবং বাকি দুজনকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
দুর্গাপুর আদালতের বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।এই প্রসঙ্গে, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডঃ প্রণব কুমার বলেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে। নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে কাঁকসা থানার পুলিশ।

