একাদশীর সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার সালানপুরে গৃহবধূর রহস্য মৃত্যুতে চাঞ্চল্য, আটক স্বামী
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* একাদশীর সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে গলায় দড়ি দেওয়া এক গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের সালানপুর থানার জেমারী এলাকায়। মৃতার নাম নমিতা বাউরি (২৬) ওরফে কাজলি। এই ঘটনায় মৃতার বাপের বাড়ির তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বলা হয়েছে, নমিতা বাউরি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেনি। স্বামী শ্রীকান্ত বাউরি সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তার উপর শারীরিক নির্যাতন করার পরে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই অভিযোগের পরে সালানপুর থানার পুলিশ মৃতার স্বামীকে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।













জানা গেছে, গত চার বছর আগে সালানপুর ও সামডির পাথুড়িয়া পাড়ার বাসিন্দা মৃতার নাম নমিতা বাউরি ওরফে কাজলির বিয়ে হয় জেমারী বাউরি পাড়ার বাসিন্দা শ্রীকান্ত বাউরির সঙ্গে। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে বিয়ে হওয়া শ্রীকান্ত বাউরি ও নমিতা বাউরির আড়াই বছরের একটি শিশুকন্যাও রয়েছে। পরিবার বক্তব্য, গত কয়েক দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অশান্তি চলছিল।
এর পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে বাপের বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় , নমিতা ঘরের মধ্যে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।খবর পেয়ে মৃতার বাপের বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি শ্বশুরবাড়ি পৌঁছান। তবে তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা মৃতদেহ নামিয়ে নেন বলে অভিযোগ। বাপের বাড়ির লোকজনের প্রশ্ন— তাঁদের অনুপস্থিতিতে এবং পুলিশের কোনো রকম উপস্থিতি ছাড়াই তড়িঘড়ি কার নির্দেশে ও কেন দেহ নিচে নামানো হলো?
একে একটি গভীর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তাঁরা।নমিতার বড় জামাইবাবু শশী শঙ্কর বাউরি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, নমিতা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। এটি যে পুরোপুরি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে তাঁরা নিশ্চিত। ইতিমধ্যে পরিজনরা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এরপর ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সালানপুর থানার পুলিশ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী শ্রীকান্ত বাউরিকে আটক করেছে। পাশাপাশি, মৃত গৃহবধূর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টর ভিত্তিতে গৃহবধূর মৃতদেহর ময়নাতদন্ত। সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। পুলিশ আরো জানায়, মৃতার স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

