আসানসোল সহ শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ভারী বৃষ্টি বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন বন্ধ একাধিক রাস্তা ও ব্রিজ, সতর্কবার্তা আবহাওয়া অফিসের
বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল শহর সহ পুরনিগম এলাকা ও শিল্পাঞ্চল জুড়ে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একটানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সারারাত ধরে বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে মেঘে ঢেকে রয়েছে শিল্পাঞ্চলের আকাশ। চলছে বৃষ্টি। এই ভারী বর্ষণে শহরের অনেক এলাকায় জল জমেছে। জল জমা আটকানোর ব্যবস্থা আগাম করা নিয়ে আসানসোল পুরনিগমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই মুহূর্তে আসানসোল পুরনিগমের বোর্ড নেই। প্রশাসক তথা পুর কমিশনার সহ অন্য আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ার গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখার্জি সহ বিজেপি এক/দুজন প্রাক্তন কাউন্সিলাররা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।














সোমবার রাতে আসানসোল পুরনিগমের পুর কমিশনার দিলীপ মিশ্র আসানসোলের হটন রোডে মহল ম্যারেজ হল সহ বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন। রাতে আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সমাজ মাধ্যমে একটি বার্তায় মানুষদেরকে আশ্বস্ত করেন। তিনি একটি নিজের হেল্প লাইন দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুর আধিকারিকদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন। কেউ কোন জায়গায় বিপদে পড়লে, আমাদেরকে জানান। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পর আসানসোলের সেনরেল রোড বা বিবেকানন্দ সরণীতে রেল পাঁচমুখী ব্রিজ জলের তলায় চলে যায়। বলতে ভগৎ সিং মোড় থেকে সেনরেল মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি সম্পূর্ণ জলে ডুবে যায়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।জানা গেছে, একটি সরকারি বাস চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলে আটকে ছিল। পরে বাসটিকে উদ্ধার করা হয়। জল জমে থাকার কারণে আরও বেশ কয়েকটি যানবাহনও আটকে পড়ে জলের মধ্যে।
স্থানীয়দের মতে, একটানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জলের স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিছু জায়গায় জলের গভীরতা প্রায় পাঁচ ফুট বা তারও বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। আসানসোলের রেলপারের একাধিক এলাকা জলের তলায় চলে গেছে। অনেক বাড়ির একতলায় জল জমে যায়। এরফলে বাড়ির বাসিন্দারা দোতলায় চলে যেতে বাধ্য হন। রেলপার এলাকা দিয়ে যাওয়া গাড়ুই নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। সেই নদীর জল আশপাশের এলাকা ভাসিয়ে দেয়। একই অবস্থা দিলদারনগর ও হটন রোডের। এদিকে, আসানসোল রেল স্টেশনের দিকে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এরফলে স্টেশনে আসা যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনের দিকে যাওয়া লোকজন পথেই আটকে পড়ছেন।পরিস্থিতি এমন যে, জল জমে থাকার কারণে ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল এবং অনেক বড় যানবাহনও চলতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে কিভাবে তারা স্টেশনে পৌঁছাবেন এবং সময়মতো ট্রেন ধরবেন, তা নিয়ে মানুষ চিন্তিত।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আসানসোল পুরনিগম এবং রেল প্রশাসন কি পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ কিছু এলাকায় রেললাইনও জলের তলায় বলে জানা গেছে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত জলমগ্ন এলাকা নিয়ে কোন কিছু সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে বলা হয়েছে, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে আসানসোলের বেশ কিছু এলাকার রাস্তা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনসাধারনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকলকে উল্লিখিত রাস্তাগুলি এড়িয়ে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। যেমন কল্যাণপুর হাউজিং কালভার্ট ও ব্রিজ। গাড়ুই নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কালভার্ট ও ব্রিজের উপর দিয়ে জল যাচ্ছে। ফলে এই অংশে জনসাধারনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নুনিয়া নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঘবন্দি গ্রামের সংযোগকারী রাস্তার উপর দিয়ে জল প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এই রাস্তায়ও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একইভাবে, কালিপাহাড়ি রেল টানেলের ভিতর দিয়ে জল যাচ্ছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টানেল দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকলকে উপরোক্ত রাস্তাগুলি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলতে এবং বিকল্প পথ ব্যবহার করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।অন্যদিকে, আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সারাদিন ধরে এই বৃষ্টি হবে। এরফলে, একটানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।






